চাঁদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৪শ’ মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা

আ.লীগ সরকার ছাড়া কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ নেয়নি
……..মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে কমান্ডার ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।
এসময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখানে সবাই আমরা যারা আছি সবাই বীর। বীর একত্রিত হলে অনেক শক্তিশালী হওয়া যায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে আমরা সবাই মিলিত হতে পারি। ক্ষমতায় এসে তিনি দেশকে কিভাবে উন্নয়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা যায়, তা তিনি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কারণেই এদেশকে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। আজকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের না চেয়েও ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ছাড়া কেউ আমাদের খোঁজও নেইনি। এ সরকারের আমলে আমরা সম্মান পাচ্ছি। সম্মান দিলে সম্মান আরো বেশি পাওয়া যায়। অন্যান্য দেশে স্বাধীনতা দিবসও ঠিকমত পালন করতে পারে না। আর আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধাদেরও প্রতিমাসেই সম্মান দেয়া হয়। শেখ হাসিনা দয়ার সাগর। তিনি দিতে জানেন।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল উদ্বোধনের সময় আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন আমার মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ভাড়া লাগবে না। এটি একটি বিরল সম্মান। একসময় এদেশে প্রতিনিয়ত অসম্মান করতো মুক্তিযোদ্ধাদের। বুক ফুটে কান্না এসেছিলো কিন্তু কিছু করতে পারি নাই। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশে আওয়ামী লীগ সরকার আসছে। এখন দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে উন্নয়ন হচ্ছে।
মায়া চৌধুরী আরো বলেন, বিএনপি শুধু মিথ্যাচার করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও বিকৃতি করে। তারা বলেছিলো আওয়ামী লীগের খেলা নাকি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তারা গরু চড়ার মাঠে গিয়ে সভা করে। শুধু দফা আর দফা দেয়। আবার বলে ৩০ তারিখ মাঠে নামবে। ইন্শাআল্লাহ আমরাও মাঠে থাকবো। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাবে। ভোট হবে সরকার অধিনে থেকে। জোর করে ক্ষমতা যাওয়া যাবে না। নৌকাকে জয়লাভ করতে পারলে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে। জয় বাংলা বললে কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না।
চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান গণি পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ, যুদ্ধকালীন নৌ-কমান্ডো শাহজাহান কবির বীর প্রতীক, এফএফ কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. রুস্তম আলী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুর রব ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকালীন চাঁদপুর জেলার ৪শ’ জন কমান্ডার ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মানী প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য, জেলা পরিষদের সব সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলার বিভিন্ন শিল্পীদের নিয়ে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

৩১ ডিসেম্বর, ২০২২।