বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার প্রয়োজন নেই
………বরকত উল্যাহ বুলু
এস এম সোহেল
আগামি ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবন মুনিরা ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রেয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ সমন্বয় কমিটির দলনেতা বরকত উল্যাহ বুলু।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতার বাঘের পিঠে ওঠেছেন, নামতে হলে খালেদা জিয়ার পা ধরে নামতে হবে। দেশের মানুষ আর ভোট চুরির খায়েশ মেটাতে দিবে না। কুমিল্লার সমাবেশ থেকে আমরা বার্তা দিতে চাই শেখ হাসিনাকে আর বাংলার মাটিতে প্রয়োজন নেই।
তিনি আরো বলেন, মানুষ যেনো সমাবেশে না আসতে পারে সে জন্য চিটাগাং, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশালের সমাবেশে সরকার ঘোষিত হরতাল আবরোধ পালিত হয়েছে। এতোকিছু করেও মানুষের স্রোত থামতে পারেনি সরকার। মানুষ নদী সাতার কেটে পায়ে হেটে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। প্রত্যেকটি জনসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো। বৃহত্তর ফরিদপুরে শেখ হাসিনার জন্মভূমি। সেই ফরিদপুরে ৯ তারিখ থেকে প্রায় ৪০ হাজার নেতাকর্মী অবস্থান করছে। সমাবেশকে ঘিরে ঐ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২৬ তারিখ কুমিল্লার সমাবেশ হবো সর্ববৃহৎ। সব বিভাগকে পিছনে ফেলে কুমিল্লা জনতার মহাসমুদ্রে পরিণত হবে। শেখ হাসিনা কুমিল্লার নাম শুনলে তার কাছে ‘কু’ মনে হয়। কুমিল্লার সমাবেশে জনগণ তার উচিত জবাব দিবে। শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলন করে বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে ভরে দিবে। তার কথামতো দেশে কোন আইন নেই। তিনি যা বলবেন তাই হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যসহ সব কিছুর দাম আজ আকাশচুম্বি। ৩ মন ধান বেচলে ১ মন চাল পাওয়া যায়। মিল মালিক ও ব্যাংকগুলো সব আওয়ামী লীগের। আজ দেশে হরিলুট হচ্ছে।
১৪ লাখ কোটি টাকা তারা পাচার করেছে। কানাডায় বেগমপাড়া করা হয়েছে। সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা দিয়ে বিদেশে বাড়ি কেনা হচ্ছে। আর তারা বলছে- খালেদা জিয়া এতিমের ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই টাকা এখন ১০ কোটি টাকা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। বাংলার জনগণ শেখ হাসিনাকে লালকার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। ঢাকায় ৫০ লাখ লোকের সমাবেশ হবে। সেই সমাবেশ থেকে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের রুপরেখা ঘোষণা হবে।
তিনি আরো বলেন, শেখ পরিবারের কেউ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। আজ যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কথা বলে তারা একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হবে। আজ বিএনপি যে আন্দোলন সংগ্রাম করছে তা বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। তা হচ্ছে এদেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে তারা আরাম-আয়েশ করছে, আর দেশের মানুষ কষ্টে আছে।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, কুমিল্লার রাজপথ ২৬ তারিখ বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলে থাকবে। সেদিন লাখ লাখ নেতাকর্মীর ঢল নামবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে ২৬ নভেম্বরের প্রোগ্রামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মনিক বলেন, আমরা সব মতভেদ ভুলে ২৬ তারিখের সমাবেশ সফল করবো। ভয়ের কিছু নেই, আগামি দিনে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হলে শেখ হাসিনাকে সর্বপ্রথম ক্ষমতা থেকে হঠাতে হবে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মুনির চৌধুরী ও খলিলুর রহমান গাজীর যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুল হক সাঈদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ রাশেদা বেগম হীরা, সদস্য এমএ হান্নান, ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশীদ, সদস্য মাহবুবুল ইসলাম স্বপন, আব্দুস সাত্তার পাটওয়ারী, ক্যাবের সভাপতি ডা. সরকার মাহবুব আহমদ শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রিপন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার মজুমদার হক শীমুল।
আরো বক্তব্য রাখেন মতলব উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম শুক্কুর পাটওয়ারী, চাঁদপুর শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ মো. ইউনুছ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজালাল, ফরিদগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমানত গাজী, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মকবুল হোসেন, হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্ল্যাহ বেপারী, কচুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি নূরুল আমিন বকাউল, মতলব বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. সোহেল আহমেদ প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ যেকোন মূল্যে কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া সভায় জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাও. জসিম উদ্দিন।
১৩ নভেম্বর, ২০২২।
