চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির অনন্য দৃষ্টান্ত হারিয়ে যাওয়ার ৪ ঘণ্টা পর ৫০ হাজার ফিরে পেলেন এক শিক্ষক

নোমান হোসেন আখন্দ :
চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া মালামাল ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। গত ২০ ডিসেম্বর শাহরাস্তিতে মো. জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক সিএনজি চালক স্কুল শিক্ষক নিতিশ চন্দ্র করের হারিয়ে যাওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার শাহরাস্তি গেইট দোয়াভাঙ্গাস্থ চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির কার্যালয়ে টাকা ফেরত দেয়ার এ ঘটনা ঘটে।
স্কুল শিক্ষক, সিএনজি চালক ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক নিতিশ চন্দ্র কর দুপুর ২টায় সূচীপাড়া জনতা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন শেষে উপজেলার উদ্দেশে চালক জসিম উদ্দিনের সিএনজিতে যাত্রী হিসেবে আরোহন করে। উপজেলা পরিষদ গেইটে সিএনজি থেকে নেমে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাজ সমাপ্ত করার পর বুঝতে পারেন ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি উক্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শাহজাহানকে অবহিত করলে তিনি সূচীপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ডের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সার প্রধান কার্যালয়ে জানান। অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে নির্লোভ সিএনজি চালক উক্ত ৫০ হাজার টাকা গাড়িতে পড়ে থাকতে দেখে তা উদ্ধার করে চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন মজুমদারের কাছে জমা দেন। আবুল হোসেন মজুমদার ওই ঘটনা জানতে পেরে সিএনজি মালিক সমিতির দোয়াভাঙ্গায় অবস্থিত নিজস্ব মাইকে তা প্রচার করে দেন। শিক্ষক নিতিশ চন্দ্র কর দোয়াভাঙ্গায় এসে মাইকিংয়ের সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুলে বললে মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষ চালক জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে ওই টাকা ফেরত দেন।
শিক্ষক নিতিশ চন্দ্র কর জানান, আমি সিএনজি অটোরিক্সা চালকের সততায় মুগ্ধ হয়েছি। আমার এ উপলব্ধি হয়েছে দেশে এখনো সৎ ও আদর্শবান লোক রয়েছে। আমি চাঁদপুর জেলা সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে কৃতজ্ঞ।