চাঁদপুর ডকইয়ার্ডে নির্মাণাধীন জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের ৫নং কয়লা ঘাট এলাকার পদ্মা তেলের ডিপোর ট্যাংকার জাহাজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা একটি ডকইয়ার্ডে কাজ করা অবস্থায় নির্মাণাধীন জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় উত্তর ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, মো. নাছির মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শাহপরান ওয়ার্কসপ ও নাদিয়া হার্ডওয়্যার নামে ডাকাতিয়া নদীর পাড় দখল করে ডকইয়ার্ড ও ওয়াকর্শপ গড়ে তুলেছে। এখানে সে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবৈধ এই ডকইয়ার্ড তৈরি করেছেন। গতকাল শনিবার এম-১৭০৮২ নম্বরের একটি জাহাজ তৈরি করার কাজ করছিল। ওয়েল্ডিং মেশিন থেকে জ্বালাই কাজ করা অবস্থায় ওই জাহাজটির স্টোর রুমে কাপড় চোপড়ে আগুন ধরে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজটির ৫০ গজ পশ্চিমাংশে পদ্মা ডিপোর তৈলবাহী জাহাজ থেকে তৈল আনলোড করা হচ্ছিল। স্থানীয় জনতা ও চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা যদি ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেত তাহলে এই এলাকার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারতো।
ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে তেল মনিটরিং কমিটি ও পদ্মা তেলের ডিপোর কর্মকর্তারা এইভাবে অবৈধ ডকইয়ার্ড ও বস্তি এলাকার উচেছদের জন্য বহুবার আইন-শৃঙ্খলা ও তেল মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক ও সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরিদ আহমেদ মনির ও আরিফুর রহমান জানান, অসাবধানতাবশত এই জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে অল্পের জন্য এলাকাটি রক্ষা পেয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আমরা খতিয়ে দেখছি। এই ডকইয়ার্ডটি বৈধ না অবৈধ যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ডকইয়ার্ড মালিক মো. নাছির মিয়া ওয়ার্কসপ বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।