চাঁদপুর ডব্লিউ রহমান জুট মিলের শ্রমিকের বেতন-বোনাস নিয়ে আন্দোলন

শ্রমিক নেতা নূরুল ইসলাম মিয়াজীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পুরাণবাজারের পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার ডব্লিউ রহমান জুট মিলের শ্রমিকরা বেতন, মুজরি ও ঈদ বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করেছে। গতকাল শনিবার মিলের সামনে শ্রমিকরা বেতন বোনাসের দাবিতে মিছিল করে। এদিকে মিলের শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম মিয়াজীর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বোনাস আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন জুট মিলে কর্মরত শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানায়, গত বছর ডব্লিউ রহমান জুট মিলস্ শাহারা জুট মিলস্রে কাছে মিলটি ভাড়া দেয়। আড়াই লাখ টাকা মাসিক ভাড়া নির্ধারণে গত ১ বছরে অর্ধেকের বেশি সময় পাট না থাকার অজুহাতে মিল বন্ধ রাখেন কর্তৃপক্ষ। ফলে মিল বন্ধ থাকায় অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করেন শ্রমিকরা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত ১ মাস ২৬ দিন মিল বন্ধ। মাঝে দুই একদিন করে মিল চলেছে। বর্তমানে প্রায় ৩শ’ শ্রমিকের ১২ দিনের কাজের মুজরি ও ১২ জন স্টাফের ৩ মাসের বেতন কোম্পানীর কাছে বকেয়া রয়েছে। যা প্রায় ৬ লাখ টাকা। শ্রমিকরা বকেয়া টাকা চাইতে গেলে মালিক পক্ষের কাউকে না পেয়ে তারা মিলের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করে। তাদের অভিযোগ গত ঈদুল ফিতরে শাহারা জুট মিলস্ কর্তৃপক্ষ কোম্পানীর বিভিন্ন দেনা ও শ্রমিকের বেতন বোনাস প্রদানে শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম মিয়াজীর কাছে দেড় কোটি টাকা প্রদান করে। বেতনের ৭০ ভাগ বোনাস দেয়ার কথা থাকলেও এই শ্রমিক নেতা ৩শ’ ও ৫শ’ করে বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করে। আর বাকি টাকা নিজের পকেটে ভরে। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। কথা বললে হতে হয় চাকরিচ্যুত, না হয় মারধরের শিকার। এবারও সে একই কায়দায় ঈদ বোনাস, বেতন ও মজুরির টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।
শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, এ জুট মিলে শ্রমিক নেতারা নারী শ্রমিকদের অর্থের লোভ ও চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। কিছুদিন আগে এক নারী অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলো। এমন শত শত ঘটনা রয়েছে। যা সঠিক তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে ডব্লিউ রহমান জুট মিলের ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান রিপন জানান, আমরা শাহারা জুট মিলস্রে কাছে মিল ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। যেহেতু তারা মিল চালাচ্ছে সেহেতু শ্রমিকদের বেতন বোনাস তারা প্রদান করবে।
শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম মিয়াজী জানান, আমার বিরুদ্ধে শ্রমিকরা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে মিল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে ৭ আগস্ট তারা শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করে দিবে। কর্তৃপক্ষ যদি না দেয় তাহলে আমার পকেট থেকে দিবো। এসময় তাকে দেড় কোটি টাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
দেড় কোটি টাকা প্রদানের বিষয়ে কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাহজাহান বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিউজ কাভারেজের জন্য ছুটে যান সাংবাদিকরা। এসময় শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম মিয়াজী সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে রেগে যান এবং সাংবাদিকদের গালমন্দ করেন।
শ্রমিকদের সম্মিলিত অভিযোগ নুরুল ইসলাম মিয়াজীর মতো শ্রমিক নেতাদের দুর্নীতি আর আধিপত্যের কারণে চাঁদপুরের ৬ হাজার শ্রমিকের ২ জুট মিল বন্ধ রয়েছে। রক্ষক হয়ে তারা ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে। এদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

২৮ জুলাই, ২০১৯।