এস এম সোহেল
চাঁদপুর পৌরসভার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১শ’ ১৪ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ২শ’ ১৯ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল এ বাজেট ঘোষণা করেন।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৫০ কোটি টাকার দেনা নিয়ে এ পরিষদ কাজ শুরু করে। বর্তমান মেয়রের দুই বছর আট মাসের মধ্যে ৩২ কোটি টাকার দেনা পরিষোধ করেছেন। দেনার মধ্যে বিশাল অংকটা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল, যা ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সব কিছুর উত্তরণ ঘটিয়ে পৌর মেয়র এবছর ১১৪ কোটি টাকার বিশাল ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট পেশ করেছে।
তিনি আরো বলেন, পৌর মেয়র পৌরসভার বর্ধিত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য অনেক কাজ করেছেন। অতীত পরিষদের ২০০৭ সালের পৌর কর্মচারীদের গ্র্যাজুয়িটির টাকা বর্তমান পরিষদ পরিষোধ করছেন। বর্তমান পরিষদ একটাকাও ট্যাক্স বৃদ্ধি করেনি, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে চাঁদপুর পৌরসভা ট্যাক্স না বাড়িয়ে ট্যাক্সনেট বাড়িয়েছে। পৌর মেয়র নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাকি সময়ে শেষ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ডা. দীপু মনি আরো বলেন, মেয়র ও তার পরিষদ কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিষোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা ভাতা নেননি। রাজনীতির সুস্থ ধারা চর্চার জন্য মেয়র তার বক্তব্যে অনেক কথা বলেনি বলে উল্লেখ করেছেন। পৌর অডিটোরিয়াম মিলনায়তনটি এমন অবস্থায় রয়েছে তা সংস্কার করতে অনেক টাকার প্রয়োজন সেজন্য মেয়র চেষ্টা করছেন। শিশুপার্ক শ্রীঘ্রই হবে। সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, তাই নাগরিক হিসেবে তা বৃদ্ধিরোধে সবার অনেক কিছু করার আছে। তাই সবাইকে নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করতে হবে। তাহলে চাঁদপুরসহ সারাদেশ ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই আধুনিক নৌ বন্দরের কাজ শুরু হবে। এসবি খাল ও বিদ্যাবতি খালকে খননপূর্বক পরিচ্ছন্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কাজ করবে। পর্যটনকেন্দ্র হওয়ার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। অবহেলিত এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইন অনেক লাগানো হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক কাজ হয়েছে আরও অনেক উন্নয়ন কাজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
পৌর মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল তার বক্তব্যে বলেন, পৌর পরিষদের বিরাট দেনা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। আমি যেদিন দায়িত্ব নেই তখন ২২ হাজার টাকা ব্যাংকে ছিল। ৫০ কোটি টাকার অধিক দেনা নিয়ে পরিষদের কাজ শুরু করি। তারমধ্যে বিদ্যুৎবিল ছিল ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পৌর কর্মচারীদের ৮ থেকে ৯ মাসের বকেয়া বেতন আমরা দিয়েছি। আমরা দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেছি। রাজনীতির সুস্থধারা চর্চার জন্য আমি বক্তব্যে অনেক কিছু উল্লেখ করলাম না। আমি আসার আগে বাজেট ছিল ৯১ কোটি টাকা। এবছর আমরা তা ১১৪ কোটির বাজেট পেশ করছি। এরমধ্যে রাজস্ব বাজেট ধরা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। ২ বছর ৮ মাসে পৌরসভা নিজস্ব আয় থেকে ৫০ কোটি টাকার কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। যেভাবে আমরা পৌরসভাটিকে পেয়েছি তাতে মনে হয়নি পৌরসভার কোন অভিভাবক ছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাক্তিদের দান-অনুদান গ্রহণ করতে পারে। দাতাদের অনুদান নিয়ে জায়গা ক্রয় করে সিএনজি ও বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। পৌর মেয়র বলেছেন- হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করেননি, কিন্তু আমি ওনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। হোল্ডিং ট্যাক্স আপনি সারাবছরের জন্য দিবেন। তা দিতে কেন কার্পন্য হবে। বিশুদ্ধ পানি নাগরিককে প্রদান, শহরের পরিচ্ছন্ন ও আলোকসজ্জাসহ অনেক কিছু পৌরসভার করে দিচ্ছে।
বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ ও শাহরাস্তি পৌরসভার মেয়র মো.আব্দুল লতিফ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি।
চাঁদপুর ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেন বাবু পাটওয়ারীর পরিচালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, রহিম বাদশা, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সময় টেলিভিশনের চাঁদপুরস্থ প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, আলোকিত বাংলাদেশের চাঁদপুরস্থ প্রতিনিধ শওকত আলী, দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এম আর ইসলাম বাবু, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চাঁদপুর পৌরসভা মসজিদেও ইমাম হাফেজ মো. জাকির হোসেন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ ঘোষ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম ভূঁইয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএম হান্নান, শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, জিএম শাহীন, রিয়াদ ফেরদৌস, পৌরসভা প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াস, হেলাল হোসাইন, কাউন্সিলর আব্দুল মালেক শেখ, আব্দুল লতিফ গাজী, মামুনুর রহমান দোলন, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মো. সফিকুল ইসলাম, চাঁন মিয়া মাঝি, ইউনুস সোয়েব, হাবিবুর রহমান দর্জি, মো. আলমগীর গাজী, খায়রুল ইসলাম নয়ন, অ্যাড. কবির চৌধুরী, নারী কাউন্সিলর ফেরদৌসী আক্তার, খালেদা রহমান, আয়েশা রহমান, মোসাম্মৎ শাহিনা বেগম, পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন হাওলাদারসহ পৌরসভার সব কাউন্সিলর, কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা।
উল্লেখ্য, বাজেট অনুষ্ঠানে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী ও বিশেষ মঞ্জুরী ৫ কোটি টাকা, অডিটরিয়াম নির্মাণে ৮ কোটি টাকা, বিএমডিএফ প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা, শিশু পার্ক নির্মাণে ৫ কোটি টাকা, পৌর ভবন সম্প্রসারণ খাতে ৮০ লাখ টাকা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে (সৌর সড়ক বাতি) ১ কোটি টাকা, অতি গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন-২ খাতে ৮ কোটি টাকা, আরইউটিডিপি প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকা, কোভিড-১৯ প্রকল্পে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পৌরসভার প্রধান প্রধান খাল সংস্কার ও ভূমি অধিগ্রহণে ৫০ লাখ টাকা, ইউএনসিডিএফ (অটোমেশন খাত) ২০ লাখ ও অন্যান্য ১ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১শ’ ১৪ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ২শ’ ১৯ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রাক্কলিক ব্যয় হিসেবে সমপরিমাণ অর্থ দেখানো হয়েছে।
১৫ জুলাই, ২০২৩।
