চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মকে জানাতেই চাঁদপুরে বিজয় মেলা
……….মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল

স্টাফ রিপোর্টার
গৌরবের ৩১ বছর পূর্তিতে চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ৩য় তলায় সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেলার উপদেষ্টামন্ডলীর সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এই মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। বিজয় মেলায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছেন কারা? মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা সবাই একমত। কারো সাথে আমাদের দ্বিমত নেই। কমিটির সাথে সমন্বয় না করে এক ব্যক্তি সব কাজ করতে গিয়ে কিছু দ্বিমত তৈরি করেছেন। কাজ করতে গেলে ভুল হবেই। তবে কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। দোকানগুলো হবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, শিশুদের ও নতুন প্রজন্মের জন্য। মেলাটি যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হয়।
সাধারণ সভার সভাপতিত্ব করেন বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর মুক্ত দিবস উপযাপনের লক্ষ্যেই এই মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সৃষ্টি। তারপর ১৯৯২ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রথম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শুরু হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি, যুদ্ধ করেছি, জীবন দিয়েছি। এখন দেশ হলো আপনাদের। মেলায় যারা দোকান দিবেন, তারা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা জমা দিবেন। কোন ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন করবেন না। ‘৯০ এর অভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন ও নতুন প্রজন্মকে মেলার বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করবেন। হিসাব-নিকাশ, পারিবারিক সমস্যা, জেলা পরিষদ নির্বাচনসব কিছু নিয়ে সৃষ্টি হওয়া সমস্যার কারণে মেলার কার্যক্রম একটু দেরী হয়েছে। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে এ বছর মেলা সঠিক সময়ে শুরু হবে। ইতোমধ্যে মাঠের কাজ শুরু হয়ে গেছে। মেলা কমিটি সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব হারুন আল রশিদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরণ, অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, মেলা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, শহীদ পাটওয়ারী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সোহেল রুশদী, রহিম বাদশা, জাফর ইকবাল মুন্না, মাহফুজুর রহমান টুটুল, শাহাদাত হোসেন শান্ত, ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, তৌহিদুল ইসলাম চপল, শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, মিজানুর রহমান লিটন, শাওন পাটওয়ারী, জাহাঙ্গীর হোসেন, আমির হোসেন বাপ্পি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

০৬ নভেম্বর, ২০২২।