চাঁদপুর মেঘনা নদী থেকে নিখোঁজ ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর মেঘনা নদীতে গত রোববার রাতে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৫ জেলের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গত সোমবার বিকেলে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা হাইমচর চরভৈরবী আমতলী এলাকা থেকে মুনসুর বেপারী নামে একজেলের মরদেহ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের উত্তর গোবিন্দিয়া গ্রামে মোহাম্মদ আলী ও আলমগীর হাওলাদার, চান্দ্রা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মদিনা মার্কেট এলাকার হানিফা মাল নামের ৩ জনের মরদেহ নদীতে ভেসে উঠলে স্বজনরা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নদীতে এখনো আরো জাকির হোসেন নামের একজন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। জাকির হোসেন হানারচর ইউনিয়ননের নন্দির দোকান এলাকার সংলগ্ন বাসিন্দা।
হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান আ. ছাত্তার রাড়ী বলেন, নিহত জেলে আলমগীর হাওলাদার হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার রাশিদা বেগমের ছোট ছেলে, মোহাম্মদ আলী দেওয়ান বাড়ির আনু দেওয়ানের ছেলে এবং মুনসুর বেপারী লতিফ বেপারীর ছেলে।
খবর পেয়ে দুপুরে নিহতদের বাড়িতে যান চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদ শাহনাজ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আ. জলিল জানান, আমরা ঝড়ে নৌকা ডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন জেলের লাশ উদ্ধার করেছি। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে ৫ জেলে নিখোঁজ হয়। উদ্ধার হওয়া ৩ জনের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।
এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নিহত জেলেদের প্রতিটি পরিবারে চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম।
উল্লেখ্য, মার্চ-এপ্রিল দু’মাস চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ শিকার নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, নদীতে স্পিডবোট চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময় কোন মাছ ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মওজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করে কেউ মাছ আহরণ করলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইন দুই বছর কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী জেলেদের দিয়ে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত করেন। এই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৪ জেলে, এখনো ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

০৭ এপ্রিল, ২০২১।