চাঁদপুর রেলস্টেশন প্লাটফর্ম ব্যবহারের আগেই ভেঙে পড়েছে

অভিযোগের ফলে কাউন্সিলর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকার রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্মের নবনির্মিত ১৫০ ফুট পাকা দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় ১শ’ ফুট লম্বা ও প্রায় ২৫ ফুট চওড়া স্টেশন প্লাটফর্মের নিম্নমানের কাজ করার ১৫ দিনের মাথায় ব্যবহারের আগেই এই ১৫ ফুট বাই ১০ ফুট প্লাটফর্মের পাকা দেওয়াল সামান্য বৃষ্টির পানির চাপে ভেঙে গেছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভেঙে পড়া স্থানে রেলওয়ে ঠিকাদার পুনরায় নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয়দের অভিযোগের ফলে চাঁদপুর শহরের ৭নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিকুল ইসলাম কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একই কথা বৃষ্টির পানির চাপে ভেঙে যায় প্লাটফর্ম। এ কাজ করছেন চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের রিপন চৌধুরী। তবে এ কাজটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পুনরায় করে দিতে হবে বলে চাঁদপুর-লাকসামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসএসএ/ই ওয়াকর্স মো. আতিকুর রহমান জানান।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অফিসের ১০ ফুট পূর্বে এ ১৫০ ফুট প্লাটফর্মের দেওয়ালটি পর্যায়ক্রমে ভেঙ্গে পড়ে। ভাগ্যক্রমে জনসমাগমকৃত স্থানটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় কোন মানুষের বা যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় বসবাসকারী ও রেলওয়ে চাঁদপুরে কর্মরত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এসএ/ই ওয়ার্কস মো. আব্দুর নূর জানান, চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকার প্লাটফর্ম বর্ধিত করার কাজ চলছে। এ কাজ বিগত ৬/৭ মাস যাবত চলছে। বর্তমানে যে স্থানে দেওয়াল ভেঙে পড়েছে সে কাজ প্রায় ১৫ দিন আগে করা হয়েছে। বর্তমানে প্লাটফর্মের কাজ চলমান রয়েছে।
গত শনিবার দিনে ও রাতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে নির্মাণাধীন ফ্লাটফর্মে যে বালি ফেলা হয়েছে, সেখানে পানি জমে ও ঠিকাদারের লোকেরা সেলোমেশিন দিয়ে পানি দেওয়ায় রেললাইনের দিকে ১৫ ইঞ্চি, অপরদিকে ১০ ইঞ্চি ও ৫ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার দেওয়ালটি ওভারলোডের কারণে ভেঙে গেছে। এ দেওয়ালটি আরসিসি না, এটি ইটের উপর করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বরিশালে যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানান, ১০ ইঞ্চি দেওয়াল সামান্য বৃষ্টির কারণে ধ্বসে পড়ে বা ভেঙে যেতে পারে না। এখানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদারকি সঠিকভাবে না করার ফলে এমনটি হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর-লাকসামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসএসএ/ই ওয়াকর্স মো. আতিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ রেললাইন পাশে সম্প্রসারণ ও প্লাটফর্মের কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ টাকায় এ কাজটি করছেন। এখানে কোন আরসিসি পিলার স্থাপন করে কাজ করা হচ্ছে না। রেলওয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে এ কাজটি করা হচ্ছে। যে কাজ হচ্ছে, তা’ নকশা অনুযায়ী করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
চাঁদপুর পৌর ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিকুল ইসলাম জানান, জনগণের অর্থে নির্মিত কাজ নিম্নমানের করায় স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার কাজ চলা অবস্থায় দুপুরে তা’ বন্ধ করে দিয়েছি। রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মানসম্মত কাজের নিশ্চয়তা দিলে পুনরায় কাজ করতে পারবে।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১।