চাঁদপুর লকডাউনে দু’দিনে ৩২৭ মামলায় তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড

এস এম সোহেল
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের নির্দেশনায় লকডাউনের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শহরে কিছু রিক্সা চললেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে তেমন একটা দেখা যায়নি। লকডাউনের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে ৩২৭ মামলায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়।
রোববার (৪ জুলাই) ও শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা। লকডাউনে সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করা এবং ভোক্তা অধিকার আইন লংঘন করে যারা বাইরে বের হয়েছে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মামলা দিয়ে অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাঁদপুর শহরে কালীবাড়ি শপথ চত্বর এলাকা, পালবাজার গেট, বাসস্ট্যান্ড, চেয়ারম্যান ঘাট, ওয়ারলেস, বাবুরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা, জেলা সদর ও ৭ উপজেলার ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এসময় যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছে এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১শ’ ৬০ মামলায় ১শ’ ৬০ জনকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২শ’ টাকা অর্থদন্ড করেন।
এছাড়া এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনেও চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী। শহরের লোকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিংসহ প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। জেলায় আশঙ্কাজনক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেশি।
অপরদিকে গত শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সর্বমোট ২২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছে এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ও দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় ১৬৭টি মামলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ সময় যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন তাদের আলাদা-আলাদাভাবে অর্থদণ্ড করা হয়। চাঁদপুরে কঠোর লকডাউন চলমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এই মোবাইল কোর্ট নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায়।

০৫ জুলাই, ২০২১।