চাঁদপুর শহরের আলোচিত বাড়িটি দেখিয়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে

আদালতের রায় গোপন করে

স্টাফ রিপোর্টার
বৈধ কোন কাগজপত্র নেই, নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত কোথাও মালিকানা দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারপরও বিগত ২০০৭ সালের জুন মাসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি হুমুকদখল শাখা থেকে প্রীতি রানী ঘোষকে আর.সি ২৬/৪৮ নং বাড়িটি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তখন পুরো শহরে বেশ আলোচিত একটি ঘটনা ছিল।
বাড়ির মালিকানা দাবিদার হোসনে আরা জানান, এ আলোচিত বাড়িটি হচ্ছে চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড়ের পূর্ব পাশের জেএম সেনগুপ্ত রোডের সাথে লাগোয়া প্রীতি কুঞ্জ নামের দোতলা বাড়িটি। দীর্ঘ অনেক বছর পর হোসনে আরা আলোচিত বাড়িটির প্রকৃত মালিক দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবরে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর দরখাস্ত দাখিল করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের কাছে (স্মারক নং- আর.সি ২৬/৪৮-১৫১)। ঐ বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রীতি রানী ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। সেই থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় বাড়িটির ছবিসহ বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বাড়িটি নিয়ে শহরের আবার আলোচনার ঝড় উঠে। পরবর্তীতে উভয়ের আইনজীবীর মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকানা নিয়ে একাধিকবার শুনানি হয়। শুনানির প্রেক্ষিতে বর্তমান জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০২১ সালের ২৪ জুন (স্মারক নং- আর.সি-২৬/৪৮-১৩৮) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা চাঁদপুরকে আহ্বায়ক এবং সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ার সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িটির বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। কমিটি বাড়িটি সরজমিনে তদন্ত এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর (স্মারক নং আর.সি ২৬/৪৮-১৮১) সরকারি কৌশলী (জিপি) এর কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন। সরকারি কৌশলী (জিপি) চলতি বছরের ১৪ মার্চ মতামত প্রদান করেন। এরমধ্যে প্রতারক চক্র অবৈধভাবে বাড়িটি বিক্রি করে অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করলে জেলা প্রশাসকের বরাবর দরখাস্ত দাখিল করা হয়। দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর (স্মারক নং- ২৬/৪৮-২০৪) চাঁদপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রারকে সংশ্লিষ্ট বাড়িটি বেচা-বিক্রি করতে না পারে সেইমর্মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে পত্র প্রেরণ করেন।
প্রীতি রানী ঘোষের নিযুক্ত আমমোক্তার (পাওয়ার অব এটর্নি) তার মেয়ে সাবিত্রি রানী ঘোষের বিরুদ্ধে বিগত দিনে আলোচিত বাড়িসহ অন্যান্য সম্পত্তি দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় চলতি বছরের ২৯ মার্চ ৩ মাসের কারাদ- ও ৬ লাখ টাকা অর্থদ-ের রায় দেন চাঁদপুরের যুগ্ম-দায়রা জজ মো. সাহেদুল করিম। যার মোকাদ্দমা নং এস. সি-৪২৮/২০১৮ ও সি.আর.নং- ৪৭৯/২-১৭ (চাঁদপুর সদর)। ঐ অর্থদ-ের টাকা সংগ্রহসহ আরো একাধিক মামলা পরিচালনার জন্য গোপনে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে আলোচিত বাড়িটি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে এবং যে কাউকে বাড়িটি দখলে দিয়ে রাতের আঁধারে চলে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
বাড়িটি দখল হস্তান্তরের আদেশ বাতিল করে চিহ্নিত প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাড়িটি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিককে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শহরবাসীসহ ভুক্তভোগী।

১৭ এপ্রিল, ২০২২।