চাঁদপুর শহরে আবার কিশোর গ্যাংয়ের দৌড়াত্ম্য বেড়ে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এক গ্রুপের সদস্যরা অন্য গ্রুপের সদস্যদের খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছে না।
করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোর গ্যাং বিভিন্নভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এরপর ঢাকার বাইরেও কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপ গড়ে উঠে।
বর্তমানে ৩০ থেকে ৩২টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য সক্রিয় রয়েছে। করোনাকালেও তারা মারামারি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ পরিচালনা করছে। এদিকে চাঁদপুর শহরে আবার কিশোর গ্যাংয়ের দৌড়াত্ম্য বেড়ে গেছে। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় মাত্র ৫শ’ টাকা দেনা-পাওনা নিয়ে ৭নং ওয়ার্ড বড়স্টেশন এলাকায় কিশোরগ্যাংয়ের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় চাঁদপুর মাছঘাট এলাকার রেল স্টেশনের জানালার গ্লাস, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে উভয় গ্রুপ। এ ঘটনার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনভর বড়স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান সন্ধ্যা পর্যন্ত চলানো হয়। তিনি জানান, কিশোরগ্যাং রোধে চাঁদপুর মডেল থানার সাঁড়াশি অভিযানে ১৫ কিশোরকে আটক করা হয়েছে।পরে যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
অপরদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার জানান, চাঁদপুর শহরে সন্ধার পর থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী রাস্তায় ঘুরাফেরা করতে পারবে না, এ ব্যপারে আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট, আমরা আপাতত যাদেরকে আটক করছি তাদের মা, বাবাকে ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে যাদেরকে পাওয়া যাবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে, কোন ছাড়নেই। এরই অংশ হিসেবে তিনি গত রোববার সন্ধার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোড, প্রফেসার পাড়া, মোল্লা বাড়ী রোড, মাঝি বাড়ী রোডের মোড়, কোড়ালিয়া রোডের শেষ মাথা, কোড়ালিয়া চৌরাস্তা, আল-আমিন স্কুলের সামনে থেকে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে আটক করে। পরে অবশ্য তাদের মুচলেখা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি প্রত্যেক মা-বাবাকে কঠিন ভাষায় সতর্ক করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, চাঁদপুর শহর শান্তির শহর কিছুতেই এ শহরকে অশান্ত করা যাবে না, আমাদের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
১০ নভেম্বর, ২০২০।