এস এম সোহেল
জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে। সুস্বাদু ফলের সরবরাহ থাকায় সবার কাছে মাসটি মধুমাস নামেই পরিচিত। বছরজুড়ে কমবেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এ সময়ে। এবারো বিভিন্ন রসালো ফলের সমাহার নিয়ে চলছে মধু মাস। রসালো ফলে এখন ভরপুর চাঁদপুরের বাজার। তবে মৌসুমি হলেও মধুমাসের ফলগুলোর দামও কিছুটা বেশি। তাই দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ।
কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, কাউ, ডেউয়া, জামরুল, নুন্না, পেয়ারা, লটকন, তালের শ্বাস ও আনারস ছাড়াও এ মাসে মিলে রসালো সব ফল। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে গ্রীষ্মের গরম হাওয়ায় মধুরসে ভরা বিভিন্ন জাতের ফলের মিষ্টি সৌরভ নিয়ে চলছে জ্যৈষ্ঠের। জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে সারা দেশ মেতে উঠছে পাকা ফলের মিষ্টি রসে। মধু মাসের মিষ্টি ও সুস্বাদু ফল মিশে আছে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে।
প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী ফলে ছেয়ে গেছে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন বাজার ও সড়ক। শহর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাজারেই গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, কাউ, ডেউয়া, জামরুল, নুন্না, পেয়ারা, লটকন, তালের শ্বাস, আনারস ইত্যাদি। এছাড়া মৌসুম শেষ হওয়ায় বিদায়ের পথে থাকা বেল ও তরমুজের মতো ফলও দেখা যাচ্ছে বাজারগুলোতে। এসব ফলের গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে শহরের রেলওয়ে প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন সড়ক। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে লিচু ও আম। এছাড়া শহরের প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়ও ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রি হচ্ছে। বাজার থেকে কিছুটা কম দামেই ফল বিক্রি হচ্ছে ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে।
শহরের প্রাণকেন্দ্র রেলওয়ে প্লাটফর্ম এলাকায় দেখা গেছে, বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফল বিক্রিতে। তারা প্লাটফর্মের উপর মৌসুমী ফল সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এ বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে আম, জাম ও লিচু। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আগামি সপ্তাহের মধ্যেই ফল বাজারের বেশিরভাগ অংশ থাকবে মিষ্টি ও রসালো আমের দখলে।
শহরের নতুন-বাজার ব্রিজের গোড়া, কালীবাড়ি, জেএম সেনগুপ্ত রোড, রেলওয়ে প্লাটফর্ম, বাইতুল আমিন মসজিদের সামনে, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, ছায়াবাণীর মোড়, চিত্রলেখা মোড়, বাসস্ট্যান্ড, চেয়ারম্যান ঘাট, ওয়ারলেস বাজার, পুরাণ বাজার লোহারপুল, ফলপট্টিসহ জেলার সব উপজেলার বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে মধু মাসের ফল।
বাজারে ফল কিনতে আসা জসিম উদ্দিন বলেন, ২৮০ টাকা দিয়ে একশ’ লিচু কিনেছি। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া। তাই ইচ্ছে থাকলেও অনেকে পরিবারের সদস্যদের এসব মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারছে না। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা। যাতে সব শ্রেণির ক্রেতারা এসব মৌসুমি ফল কিনতে পারে।
শহরের কালীবাড়ি এলাকায় ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করেন বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবক। বিল্লাল হোসেন বলেন, আগে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতাম। এখন মৌসুমি ফলের চাহিদা বেশি। তাই ফল বিক্রি করছি। দাম কিছুটা বেশি হলেও মানুষ ফল কিনছেন। এতে আমাদের লাভও ভালো হচ্ছে।
রেলওয়ে প্লাটফর্ম এলাকায় ফল ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, মুরাদ ও রশিদ জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে লিচু। প্রকারভেদে প্রতি একশ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তিনি বলেন, চৌধুরী ঘাট এলাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁঠাল, আম, লিচু, কাউ, ডেউয়া, জামরুল, নুন্না, পেয়ারা, লটকন, তালের শাস্ ও আনারস।
চাঁদপুরের বৃহৎ ফলের আড়ৎ চৌধুরী ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি ফল বিক্রিতে। তারা দোকানে মৌসুমি ফল রেখে ক্রেতাদের ডাকছেন এবং তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এ বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে কাঁঠাল, আম, লিচু, পেয়ারা, লটকন, তালের শাস ও আনারস। এছাড়া হিমসাগর, লেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের আমও শোভা পাচ্ছে ফল দোকানগুলোতে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা- আগামি সপ্তাহের মধ্যেই ফল বাজারের বেশিরভাগ অংশ থাকবে মিষ্টি ও রসালো আমের দখলে।
চাঁদপুর চৌধুরী ঘাট ফল বাজারের ব্যবসায়ী মো. হারুন হাওলাদার জানান, এই বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কাঁঠাল, আম, লিচু, পেয়ারা, লটকন, তালের শাস্ ও আনারস। গতবারের তুলনায় ফলের এবার দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু এরপরও ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি আম ও লিচুই কিনছেন। প্রতিটি দোকানেই অন্যান্য ফলের তুলনায় আম ও লিচু বেশি বিক্রি হচ্ছে।
১১ জুন, ২০২৩।
