এস এম সোহেল
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে জনগণের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র পানি সরবরাহ ছাড়া অন্য সব সেবা বন্ধ রাখায় নানাবিধ সমস্যায় পড়েছে পৌর নাগরিকরা। এর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে- পুরো শহর জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং রাতে স্ট্রিট লাইট অর্থাৎ খামে বাতি না জ্বালানোয় অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে শহর। শহরের গলিপথ সন্ধ্যার পর থেকেই ভুতুড়ে অন্ধকারে পরিণত হয়ে যায়।
শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি সর্বত্র যেনো ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। মার্কেট-দোকানের সামনে ও রাস্তার পাশ জুড়ে শুধু আবর্জনা আর আবর্জনা। চাঁদপুর শহরের মাতৃপীঠ স্কুলের মোড় তথা অনন্যা সুপার মার্কেটের বিপরীত পাশে শহরের সবচেয়ে বড় যে ডাস্টবিনটি রয়েছে সেটির সীমানা পেরিয়ে রাস্তার পাশে অনেক অংশ জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর পাশ দিয়ে এখন মানুষের আসা-যাওয়া করাটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের অন্যান্য ডাস্টবিনের অবস্থাও একই। অর্থাৎ দুই দিনের ময়লা-আবর্জনা জমে যা অবস্থা হওয়ার তা-ই হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মাসিক বেতন-ভাতা এবং চাকরি শেষে পেনশন পাওয়ার দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে দেশের ৩২৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারের তরফ থেকে তারা কোনো সদুত্তর না পেলে আন্দোলন লাগাতার চলবে।
এখন এ আন্দোলন যদি অনির্দিষ্টকালের দিকে চলে যায় তাহলে জনভোগান্তি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে সেটিই জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। দু’দিনের এ কর্মবিরতির শেষদিন ছিলো গতকাল সোমবার।
চাঁদপুর শহরের ছায়াবাণী মোড় এলাকায় গেলে বেশ কিছু পথচরী ও দোকানীরা জানায়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।
এদিকে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে এবং উপরে এনে ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। অথচ পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রহস্যজনক কারণে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলছে না। তাহলে কি তারা চাঁদপুর শহরকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত করে দেখাতে চায়?
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন হাওলাদার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, এটি আমাদের ন্যায্য দাবি। স্থানীয় সরকারের অধীনে তৃণমূল পর্যায়ের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পৌরসভা। সরকারি অন্যান্য সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মতো আমরা নাগরিকদের সেবক হয়ে কাজ করে আসছি। অথচ আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমাদের যে দাবি সেটা আমাদের মৌলিক অধিকার। সরকার আমাদের দাবি মানার ব্যাপারে যদি কোনো সদুত্তর না দেন, তাহলে আমাদের এই আন্দোলন লাগাতার চলবে।
১৬ জুলাই, ২০১৯।