চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙনস্থল পরিদর্শনে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম


চাঁদপুর-হাইমচর ভাঙন রক্ষায় ১১শ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

এস এম সোহেল
চাঁদপুর মেঘনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তিনি শহররক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকার ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, চাঁদপুর মেঘনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সারা বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। এখানেও আমরা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। দুঃখজনকভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের খবর পাওয়ার পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ভাঙনস্থানে ছুটে এসেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি সারারাত খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এলাকার মানুষের সহযোগিতায় ভাঙন রোগে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে আমাদের ভোট দিয়েছে। যেসব এলাকায় কোন সমস্যা দেখা দিবে তা সাথে সাথে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। আমার নিজ জেলা শরীয়তপুর হলেও আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া ও লোকজন কেনাকাটা করার জন্য চাঁদপুরে আসে। শরীয়তপুরের সাথে চাঁদপুরের একটি নাড়ির টান রয়েছে।
উপমন্ত্রী আরো বলেন, ৮০ মিটার জায়গা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কোন বিকল্প নেই। ৮০ মিটার ভাঙনস্থল সার্ভে করে দেখা যায় ১০ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলে ভাঙন রোধ হবে। এ পর্যন্ত ২৪শ’ জিও ব্যাগ ডাম্পিং হয়েছে। আজ আরো ৫ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। তবে ১০ হাজার বস্তা ডাম্পিং হয়ে গেলেও আমরা বসে থাকবো না। চাঁদপুরের নদী ভাঙা মানুষের পাশে আমরা সবাই সবসময় থাকবো।
তিনি বলেন, চাঁদপুর থেকে হাইমচর এলাকাকে আমরা সার্ভে করেছি। এখানে চাঁদপুর থেকে হাইমচর ৫ কিলোমিটারের জন্য ৫শ’ কোটি টাকা, শহর রক্ষা বাঁধ সাড়ে ৩ কিলোমিটারের জন্য ৪শ’ কোটি টাকা, মাঝখানে আছে চরভৈরবী ও হরিণা ২ কিলোমিটারের জন্য ১৯০ কোটি টাকাসহ প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয়ে যাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে চাঁদপুরের মানুষ স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) মোতাহার হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী (কুমিল্লা অঞ্চল) জহির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শওকত ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, পরিচালক গোপাল সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য অ্যাড. জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মো. মোতালেব, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পারভেজ করিম বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুন্না, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রবিন পাটওয়ারী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

০৬ আগস্ট, ২০১৯।