চাঁদপুর সদরে ১৩টি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৪৬ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন

এস এম সোহেল
সারাদেশে একযোগে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভোকেসনাল (বিএমটি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৬ নভেম্বর) সকালে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা আনন্দ ফুটে উঠে। শিক্ষার্থীরা এসময় উন্নত এবং সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছিলো উল্লসিত।
সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভোকেসনাল (বিএমটি) পরীক্ষার ফলাফল রোববার প্রকাশ হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩টি কলেজ থেকে ৪৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৯ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৯ জন। পাসের হার ৯৮.৬৯%।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬৩ জন। পাসের হার ৯৯.৩৯%। মানবিক বিভাগে ১২১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১২০ জন। পাসের হার ৯৯.১৭%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২৪৬ জন। পাসের হার ৯৭.৬৩%।
চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১১ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৪৩ জন। পাসের হার ৯৬.৬৯%।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৬ জন। পাসের হার ৯৯.৩২%। মানবিক বিভাগে ২৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬০ জন। পাসের হার ৯৮.১১%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩৭ জন। পাসের হার ৯৩.৬৭%।
চাঁদপুর পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৬.৩৬%।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন। পাসের হার শতভাগ। মানবিক বিভাগে ১৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোন জিপিএ-৫ নেই। উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৪ জন। পাসের হার ৯৭.৫০%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোন জিপিএ-৫ নেই। উত্তীর্ণ হয়েছে ৮২ জন। পাসের হার ৮৮.১৭%।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভোকেসনাল (বিএমটি) পরীক্ষায় ৪১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৮ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন শিক্ষার্থী এবং বিএমটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৫.৭১% এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভোকেসনাল (বিএমটি) পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ।
এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৪ জন। পাসের হার ৯৯.৩১%। মানবিক বিভাগে ১৩৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩৫ জন। পাসের হার ৯৯.২৬%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোন জিপিএ-৫ নেই। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৮ জন। পাসের হার ৮৪.৭৪%।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় ভোকেসনাল (বিএমটি) পরীক্ষায় ৪০ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাসের হার শতভাগ।
চাঁদপুর ফরক্কাবাদ কলেজ থেকে ৩০৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ২৩০ জন এবং অকৃতকার্য ৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন শিক্ষার্থী।
জিলানী চিশতী কলেজ থেকে ৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ৭২ জন এবং অকৃতকার্য ১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী।
চাঁদপুর সিটি কলেজ থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ২৪ জন এবং অকৃতকার্য ৩০ জন। জিপিএ-৫ নেই। চাঁদপুর রেসিডেন্সিয়াল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২১ জন। এরমধ্যে কৃতকার্য ৮২ জন এবং অকৃতকার্য ৩৯ জন। পাসের হার ৬৭.৭৭%। চাঁদপুর ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৪২৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ৪০২ জন এবং অকৃতকার্য ২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৩.৯৩%। বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৪৯২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ৩৬২ জন এবং অকৃতকার্য ১৩০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন শিক্ষার্থী। কামরাংগা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ১৫ জন এবং অকৃতকার্য ১৮ জন। জিপিএ-৫ নেই। খেরুদিয়া দেলোয়ার হোসেন হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ৬১ জন এবং অকৃতকার্য ৫ জন। জিপিএ-৫ নেই। বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী একাডেমী থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে কৃতকার্য ৪১ জন এবং অকৃতকার্য ২ জন। জিপিএ-৫ নেই।
আল-আমিন একাডেমীর অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আল-আমিন একাডেমীর আগের ঐতিহ্য এখনো অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল অর্জনে আমাদের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের অবদান রয়েছে। এ ফলাফল অর্জনে অভিভাবকরাও কৃতিত্বের অধিকারী। সর্বোপরি এই ফলাফলের জন্য আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আগামিতে যারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এখন থেকেই আপনারা আপনাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখবেন। তাহলে আরো ভালো ফলাফল করতে পারবে, বাবা-মায়ের পাশাপাশি কলেজের মান উজ্জ্বল করতে পারবে। ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে পুরো চাঁদপুরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের এই সাফল্য আমাদের আনন্দ দিয়েছে। আমরা খুশী হয়েছি। চাঁদপুর সরকারি কলেজ পরিবার আজ আনন্দিত। তবে আরও বেশি খুশি হতাম শতভাগ পাস করলে। তোমরা পরিশ্রম করেছ, তোমাদের বাবা-মায়ের দোয়া ছিল, আমার শিক্ষকবৃন্দ পরিচর্চা করেছে, আমরা ভাল ফলাফল অর্জন করেছি। তবে এখানেই শেষ নয়, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তোমরা বুয়েট, মেডিকেল, পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে উত্তীর্ণ হও। তোমরাই আগামি দিনের বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, আগামি দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে তোমরা হবে দক্ষ কারিগর। তোমাদের বাবা-মা তথা চাঁদপুরবাসীকে আমি ধন্যবাদ জানাই, তারাও এই আনন্দের স্টেকহোল্ডার। তোমাদের প্রতি তাদের নিরবিচ্ছিন্ন সাপোর্ট ছিল। ধন্যবাদ জানাই আমার শিক্ষকবৃন্দকে, তাদের সুনিপুণ পরিচর্চায় আমরা ভাল ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। ধন্যবাদ জানাই শিক্ষামন্ত্রী, আমাদের শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক ডা. দীপু মনিকে। যার হৃদয়ের সাথে চাঁদপুর সরকারি কলেজ তথা চাঁদপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনিপুণ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর হাত ধরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ আরও এগিয়ে যাবে- এই প্রত্যাশা করি।

২৭ নভেম্বর, ২০২৩।