চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৫ মাসে হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ

এস এম সোহেল
আবহমানকাল ধরে মানবদেহের জন্য রক্তদান এবং রক্তগ্রহণের ব্যবহার চলছে। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের মহামূল্যবান জীবন ও দেহ সুরক্ষায় রক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য তরল উপাদান। যেকোনো দুর্ঘটনায় শরীর থেকে রক্ত ঝরে গেলে দেহের অভ্যন্তরে অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের খুব প্রয়োজন। প্রসবজনিত অপারেশনের সময় বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো নাজুক অবস্থায় রক্ত দেওয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। মানবদেহে রক্তশূন্যতার জন্য রক্তগ্রহণের যেমন বিকল্প নেই।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের উদ্যোগে ৫ মাসে ১,০৮২ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে। চলতি বছরের (২০২৪ সালের) জানুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫ মাসে এ রক্ত সংগ্রহ করেন চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সিরাজুল ইসলাম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে মে মাসে (৫ মাস) ১০৮২ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ৭৪৩ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৩৩৯ ব্যাগ। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৩৩ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ২২৯ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ১৫৯ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৭০ ব্যাগ এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৬ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ২২০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ১৫২ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৬৮ ব্যাগ এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৬ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়। মার্চ মাসে ২১৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ১৪৫ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৬৯ ব্যাগ এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৭ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়। এপ্রিল মাসে ২০৯ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ১৩৮ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৭১ ব্যাগ এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৮ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়। মে মাসে ২১০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন ১৪৯ জন ও আত্মীয়ের মধ্যে রক্তদান করেন ৬১ ব্যাগ এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৬ ব্যাগ রক্ত বাতিল হয়।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে রক্ত দানের আগে স্ক্রিনিং ও ক্রস-ম্যাচিংসহ পাঁচটি পরীক্ষা করা হয়। যাতে রোগী এবং রক্তদান দাতারা সুষ্ঠু ও নিরাপদে রক্তদান করতে পারে। পাঁচটি পরীক্ষা হলো- এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়া।
তিনি আরো বলেন, রক্তদান করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রক্তদানের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি যেন মমতার বন্ধন সৃষ্টি হয়, সেটিই আমাদের কাম্য। অনেক জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি, রক্তদান রক্তদাতাদের ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়, হার্টকে সুস্থ রাখে এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। তাই সবাইকে এই রক্তদান অভিযানে অংশ নিতে হবে।

১৬ জুলাই, ২০২৪।