চাঁদপুর সোনালী ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানি চরমে

এক চেক কালেকশনে ৩৯ দিন

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সোনালী ব্যাংক (ট্রেজারী) শাখায় গ্রাহক হয়রানি চরম পর্যায়ে দাড়িয়েছে। ব্যাংকটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আচরণও আরো বেপরোয়া। ফলে গ্রাহকরা ব্যাংকটির কাছে এক প্রকার জিম্মি দশার ফাঁদে আটকা পরছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ব এই ব্যাংকটির খামখেয়ালিপনায় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের কিংবা উন্নায়নশীল দেশের তকমাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এজন্য কি সরকার না সরকারের অযোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী, তা নিয়েই চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যা সরকারের ভাবমূর্তি চরম আকারে ক্ষুণ্ন করছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করছে।
অভিযোগ উঠছে, চাঁদপুর চিত্রেলেখা মোড়স্থ সোনালী ব্যাংকের (প্রধান) শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচার-আচরণ নিয়েও। কর্মরত কেউই সাধারণ গ্রাহকদের তথ্যগত সহায়তা দিয়ে কোন সহযোগিতা তো করেইনি বরং হয়রানি করতে থাকে দিনের পর দিন। ফলে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা থাকতে হন চরম বিপদে। এই বিপদ হতে গ্রাহকদের কে উদ্ধার করবে তা নিয়েই ক্ষোভ সর্বমহলের।
ব্যাংকটির এই শাখার গুরুত্বপূর্ণ (গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান) এক গ্রাহক (হিসাবদারী ব্যক্তি) অভিযোগ করেন, ফরিদগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ১৯ হাজার ২শ’ টাকার একটি চেক তার প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু হয়। চেকটি যথানিয়মে গত ২৬ মে চাঁদপুর সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দেয়া হয়। কিন্তু বিধিবাম চেকটি জমা নিয়েই দায়িত্ব শেষ করলো সোনালী ব্যাংক। কিন্তু তারা প্রায় দেড় মাসেও চেকটির টাকা কালেকশন করে গ্রাহকের হিসাবে জমা করেনি। ফলে গ্রাহক বার-বার ব্যাংকে গিয়ে ফিরে আসলেও কোন প্রকার আশার বাণীও মিলছে না সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। তবে আশার বিষয় গতকাল ৩ জুলাই ঐ চেকটি ক্যাশ হয়েছে। যা গতকাল সন্ধ্যায় গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানা যায়।
কি কারণে টাকা আসতে দেরি হচ্ছে জানতে চাইলে, ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ম্যানেজার (সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক) মো. আসলাম হোসেনের দাবি চেক তো আমি জমা নেই না। যে জমা নেয় সে বলতে পারবে। আর জমা গ্রহণকারীর জবাব আমার দায়িত্ব গ্রহণ করা, টাকা কালেকশন না। এই হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের সেবা কিংবা সহযোগিতা। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা হয়ে পরছেন চরম অসহায়। ব্যাংকটির দায়িত্বরতদের সহযোগিতার বিপরীতে হয়রানির কর্মকাণ্ডে হতবাক এখন সবাই। এমনকি গণমাধ্যমও।
এ বিষয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে কথা হলে তিনি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, চেক জমা দিলে এখন এক দিনেই তা কালেকশন করা সম্ভব। কারণ এখন সব ব্যাংকের লেনদেন হচ্ছে অনলাইনে। ফলে সোনালী ব্যাংক মাসের পর মাস টাকা উত্তোলন কিংবা কালেকশন না করা তাদের উদাসীনতা কিংবা গ্রাহক হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
তবে তিনি আরো দাবি করেন, রাষ্ট্রায়ত্ব এই ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরির কারণে গ্রাহকদের সহযোগিতা করছে না। আর সরকারের ডিাজটাল বাংলাদেশ কিংবা উন্নয়নশীল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কি হলো তাদের কিছুই যায় আসে না। কারণ, দিন শেষে তাদের কোন জবাবদিহি নেই। বরং সাধারণ গ্রাহকদের যত বেশি হয়রানির করতে পারবে, ততই তারা মনে করতে পারে তারা বড় ব্যাংক কর্মকর্তা কিংবা ক্ষমতাশালী।
সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী চাঁদপুর সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কমচারীদের কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করবে কিনা সংশ্লিষ্টরা তাই দেখতে আগ্রহী হয়রানির শিকার গ্রাহকরা। হয়রানি শিকার গ্রাহকরা দাবি করছেন, জরুরি ভিত্তিতে জনবান্ধব ব্যাংক কর্মকর্তদের পদায়ন করা দরকার এই শাখায়। পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হলে হয়তো দ্রুত লাগব হবে গ্রাহক হয়রানি। ফিরবে সরকারের ভাবমূর্তি।
বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে এক চেকের টাকা কালেকশন করতে ৩৯ দিন অতিবাহিত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এছাড়া সরকারি অন্যতম প্রধান ব্যাংক হওয়ায় এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও সন্তোষজনক নয় বলে গ্রাহকসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৪ জুলাই, ২০১৯।