
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
হাজীগঞ্জে চোরাই মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এক সদস্যসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলো- উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের সন্না গ্রামের ফরাজী বাড়ির মৃত আব্দুল লতিফ ফরাজীর ছেলে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য মো. জাকির হোসেন (৪০) সহ একই ইউনিয়নের রাধাসার গ্রামের ছেয়াল বাড়ির মো. আক্কাছ ছৈয়ালের ছেলে মো. সুজন (২৩) ও কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া মজুমদার বাড়ির মোস্তফা কামালের ছেলে মো. সোহাগ (২৮)।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর রাতে বেতিয়াপাড়া পূর্ব মজুমদার বাড়ির ডা. আব্দুর রশিদ মজুমদারের ছেলে প্রবাসী মনির আহমেদ জহিরের বসতঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, কম্বল, পোশাক ও কসমেটিকসসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর জহিরের স্ত্রী হাছিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-২, ১২/১৭) দায়ের করেন।
হাজীগঞ্জ থানা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনায় বাদীর প্রতিবেশী বেতীয়াপাড়ার আবুল বাসারের ছেলে চোর জামাল আহমেদ (১৮) কে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি ও তথ্য অনুযায়ী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য জাকিরসহ সুজন ও সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের সৈয়দপুর পাটওয়ারীর ভাড়া বাসা থেকে ডাকাত জাকিরের তৃতীয় স্ত্রী এবং ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ঈদগাহ মুন্সী বাড়ির তার শ্বশুর বাড়ির দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
মামলার বাদী হাছিনা বেগমের স্বামী মনির হোসেন জহির জানান, চোর জামাল আহমেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডাকাত জাকিরসহ তিনজনকে আটক এবং চোরাই মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে আমি থানায় আসার পর ডাকাত জাকির হাজতে থেকে আমাকে হুমকি-ধমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান জানান, জামালকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার রাতে ডাকাত জাকিরসহ তিনজনকে আটক এবং চোরাই মালামাল উদ্ধার করি। জাকির আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য বিক্রি, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ১০/১২ মামলা রয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, আটকদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের আটকের অভিযান অব্যাহত আছে।
