জনগণের কাছে আসার জন্য যুদ্ধ জাহাটি খুলে দেয়া হয়েছে ………….কমান্ডার আরিফুল ইসলাম

শাহ আলম খান
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে যুদ্ধ জাহাজ ‘অদম্য’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে যুদ্ধ জাহাজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজান ‘অদম্য’ এর অধিনায়ক কমান্ডার আরিফুল ইসলাম সিপিএসসি বিএন বলেন, যুদ্ধ জাহাজ শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন সময়ে কাজ করেনা বরং শান্তির সময়ও দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও ত্রাণ সহায়তার কাজে অংশগ্রহণ করে। এটি যুদ্ধ জাহাজ হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কাছে আসার সুযোগ পায় না কিংবা দেখতে পারে না। যে কারণে আমরা দেশের জাতীয় দিবসগুলোতে চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর ও বরিশাল নৌ-বন্দরে সর্বসাধারণের জন্য যুদ্ধ জাহাজ উন্মুক্ত করে দিয়ে থাকি।
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ জাহাজ বিশেষ দিবস উন্মুক্ত করা ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্পর্কে মানুষকে জানার জন্য সুযোগ করে দেয়া হয় এবং আমরা কি কাজ করে তার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। আমরা যে সাধারণ মানুষের মতই একজন তা তুলে ধরার চেষ্টা করি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে জাহাজটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জাহাজটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং জাহাজে কর্মরত নাবিক ও কর্মকর্তারা তাদের জাহাজের কামানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সক্রিয় করে প্রদর্শন করেন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই যুদ্ধ জাহাজটি চট্টগ্রাম নৌ আঞ্চলিক বহরের একটি যুদ্ধ জাহাজ। খুলনা শিপইয়ার্ডে দেশের প্রথম ৫টি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছিল। তার একটি বানৌজা ‘অদম্য’। এটি ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর কমিশনপ্রাপ্ত হয়। কমিশনপ্রাপ্তির পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমুদ্র ও সমুদ্র উপকূলে চোরাচালান, জলদস্যু দমন, অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ, জাটকা নিধন বন্ধ, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সহায়তা ও ত্রাণ সহায়তার কাজ করে আসছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর জন্যও এই জাহাজ ব্যবহার করা হয়।
এই যুদ্ধ জাহাজে ৪ জন অফিসার ও ৬৫ জন নাবিক কাজ করেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও ঢাকায় প্রতিবছর ২৬ মার্চ, ২১ নভেম্বর ও ১৬ ডিসেম্বর এই তিনদিন জনসাধারণ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
জাহাজটির দৈর্ঘ ৫১ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার। এতে দু’টি বড় (৬৭ মি. মিটার) ও দু’টি ছোট (২০ মি. মিটার) কামান রয়েছে। বড়টি দিয়ে সাড়ে ৬ মাইল দূরে কামানের গোলা ছোড়া যায়। অপরদিকে ছোট কামান দিয়ে ৩ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।