জাতীয় কবির ১২২তম জন্মবার্ষিকী: কুমিল্লা ও দৌলতপুরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ

আগমনের শতবর্ষে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি কুমিল্লায়

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
কোনো ধরনের অনুষ্ঠানাদি ছাড়া অনেকটা নীরবইে কেটে গেলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী। এই প্রথমবারের মতো পুষ্পার্ঘ প্রদান ও ভার্চুয়াল আলোচনা ছাড়া সরকারিভাবে এ দিনটিতে কুমিল্লায় আর কোনো কর্মসূচি ছিলো না।
মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে স্থাপিত কবির ম্যুরাল ‘চেতনায় নজরুল’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ, নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র, কুমিল্লা’র পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-আমীন, নজরুল পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া। পুষ্পার্ঘ প্রদান করেন ঐতিহ্য কুমিল্লা’র দুজন উপদেষ্টা বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধূরী এবং নাট্যজন শাহজাহান চৌধূরী।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পার্ঘ প্রদান করা হয়।
এদিকে কবির স্মৃতিবিজড়িত মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকীর পাশাপাশি এবার কবির কুমিল্লায় আগমনেরও শতবর্ষ। কুমিল্লা ও মুরাদনগরের দৌলতপুরে কবির ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল আলোচনা। সংস্কৃতি অঙ্গণে ক্ষোভ।
গত সোমবার বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মসূচিতে নজরুল জন্মবার্ষিকীর প্রসঙ্গটি অন্তর্ভূক্ত ছিলো না। বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসলে সোমবার রাতে তরিঘরি করেই জেলা প্রশাসন থেকে নজরুল জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি অন্তর্ভূক্ত করে নতুনকরে তালিকা পাঠানো হয় সাংবাদিকদের কাছে।
১৯২১ সালের ৫ এপ্রিল দৌলতপুরের পুস্তক ব্যবসায়ী আলী আকবর খানের সাথে প্রথমবারের মতো কুমিল্লায় আসেন নজরুল। আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে নারগিস আশার খানমের সাথে প্রেমে জড়ান, বিয়ে করেন। অবশেষে তাদের এ বিয়ে স্থায়ী না হলেও পরে তিনি বিয়ে করেন কুমিল্লা শহরের প্রমিলা দেবীকে।
তাই, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের অবিচ্ছেদ একটি অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কুমিল্লা। কবির প্রেম, বিরহ, বিয়ে, সংগীত ও সাহিত্য চর্চা, আন্দোলন সংগ্রাম এবং কারাবরনের ইতিহাস রচিত হয়েছে এই কুমিল্লায়। কবির তারুণ্যের দুরন্ত সময়গুলোর সাক্ষী হয়ে আছে এই কুমিল্লা। তাই কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্র। প্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকীতে কুমিল্লায় আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানমালা।
সঙ্গত কারণেই কবির স্মৃতিবিজড়িত এই কুমিল্লায় এবার ধুমধাম করে পালন করার কথা ছিলো এ দিনটি। অথচ কুমিল্লা জুড়ে যেন শুনশান নীরবতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলার সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, করোনাকালেও দেশে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনেক অনুষ্ঠান হতে দেখা গেছে। নজরুলের ঐতিহাসিক এই দিনটিও পালন করা যেতো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই।

২৬ মে, ২০২১।