জীবিত নবজাতক পাওয়া গেলো বাজারের ব্যাগে

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে গোয়াল ঘরের পাশে বাজারের ব্যাগে মিললো জীবত অবস্থায় এক নবজাতক। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার পুলিশ সুপারের বাসভবন সংলগ্ন ঢালী বাড়ির নিজাম ওরফে খোকন ঢালীর গোয়াল ঘরের পাশে তাকে জীবত অবস্থায় পাওয়া যায়। কে বা কারা রাতের আঁধারে ওই ছেলে নবজাতকে মুখে গামছা পেঁছিয়ে, বাজারের ব্যাগে ঢুকিয়ে গোয়াল ঘর এবং গোসলখানার পাশে ফেলে রাখেন।
রাতে নিজাম ঢালী তার গোয়াল ঘরে গরুকে ঘাস দিতে গিয়ে ওই নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে তাকে রক্তাক্ত ও জীবত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তারপর তারা নবজাতকের শরীরের রক্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাতেই শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুর রহমানকে দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন।
গত শনিবার সকালে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মো. কবির হোসেন ওই নবজাতককে তাদের বাড়ি থেকে এনে নিজামের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সখিনা বেগমের তত্ত্বাবধানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই নবজাতক পুলিশি হেফাজতে সখিনা বেগমের তত্ত্বাবধানে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটিকে সেবাযতœ করা হানিফ ঢালীর স্ত্রী সখিনা বেগম জানান, শুক্রবার রাতে আমার ভাসুর গোয়াল ঘরে তার গরুকে ঘাস দিতে গিয়ে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন একটি বাজারের ব্যাগের মধ্যে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তারপর তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি। আমারও একটি শিশু সন্তান রয়েছে, তার সাথে এই নবজাতককেও বুকের দুধ পান করিয়েছি।
নবজাতক পাওয়া নিজাম ঢালী ওরফে খোকন জানান, তাদের বাড়ির পাশে তিনি একটি নতুন বাড়ি করেছেন। সেখানে তেমন কোন লোকজনের যাওয়া আসা নেই। ওই বাড়ির গোয়াল ঘরের পাশে শুক্রবার রাতে তিনি গরুকে ঘাস দিতে গেলে ওই নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন বাজারের একটি ব্যাগে মুখে গামছা দিয়ে প্যাঁচানো নবজাতকের মাথাটি ব্যাগের ভিতরে অংশে ঢুকিয়ে এবং পায়ের অংশ উপরের দিকে রেখে কে বা কারা ফেলে চলে যান।
পরে তিনি ওই শিশুটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তার বৃদ্ধ মা এবং ছোট ভাই হানিফ ঢালীর স্ত্রী সখিনা বেগমের সহযোগিতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ডাক্তার দেখি বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকালে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে ওই শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি দেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই মো. কবির হোসেন জানান, ওসি সাহেবের নির্দেশে আমি খবর পেয়ে শনিবার সকালে তাদের বাড়ি থেকে নবজাতক শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। বর্তমানে সে সখিনা বেগমের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

০৫ জুন, ২০২৩।