জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা


উন্নয়নমূলক কাজগুলো সব দপ্তরকে তুলে ধরতে হবে
……………….ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক


শাহ আলম খান
চাঁদপুর জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনার দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে ১৫ হাজার লোকের সমাগম হওয়া সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী নিয়ে আরো কয়েকবার বৈঠক হবে। সময় বেশি নেই, আর মাত্র ৫৬ দিন বাকি। আগামি ১৭ মার্চ আপনাদের হৃদয়ে ক্ষণগণনার সিস্টেম দাঁড় করাবেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির জন্ম শতবর্ষ পালন এটি খুবই বড় থিম। উন্নত বাংলাদেশ, সুন্দর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের জয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশকে দেখানোর জন্য একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করানো হয়েছে। একটি দর্শনকে সামনে আনা হয়েছে। পিছিয়ে থাকার সুযোগ কারো নেই। যারা পিছিয়ে থাকবে তাদের জায়গা অন্য জায়গায়। এই প্লাটফর্মের অংশীদার তারা না। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো প্রচার-প্রচরণার মধ্য দিয়ে তা জণগনের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসনের সরকারি দপ্তরের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক, এলজিইডি, কৃষি, স্বাস্থ্য, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, ইসলামি ফাউন্ডেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যেসব কাজ চলমান রয়েছে সেসব কাজগুলো মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্টদের করতে হবে। এর মধ্যে মতলব দক্ষিণ মডেল মসজিদ, কচুয়া মডেল মসজিদ, ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ করতে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেন জেলা প্রশাসক।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যারা সরকারি কোয়ার্টারে থাকি তারা খুব মানবেতর জীবনযাপন করছি। কারণ রুমগুলোতে টাইলস করা নেই, চুনা খসে খসে পড়ে। আশা করি নতুন যে প্রকৌশলী এসেছেন তিনি এই কাজটি করবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়ার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যেসব চিকিৎসকরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেন, তাদের অবশ্যই সঠিক সময়ে এই রিপোর্ট দিতে হবে। আমরা অনেক সময় দেখছে একটি অপমৃত্যুর রিপোর্ট ৯ মাস পরেও দেয়া হয়। যার কারণে আমাদের প্রতিবেদন তৈরী করতে সমস্যা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আমরা গবেষণা করে দেখেছি চাঁদপুর জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারে কয়েকদিন আগে কচুয়া উপজেলায় একজন স্কুল ছাত্রীর পিছনে পিছনে গিয়েছে এবং তার বাসার সামনে গিয়ে বখাটেপনা করেছে। যার কারণে একটা সময় সেই ছাত্রী অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। এরকম আরো কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাও হয়েছে।
ইভটিজিং সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে ছাত্রীদের সচেতন করে তুলছে। কিন্তু তারপরও ছাত্রীরা ইভিটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। কিন্তু তারা মুখ খুলে বলছে না। তাদের এই কথাগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা আমাদের কাছে পর্যন্ত পৌঁছছে না কিংবা আমরাও ঠিকমত খোঁজ খবর নিতে পারছি না, এটাও আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের ব্যর্থতার দায়ভারও নিতে এবং কাজটিও করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে যারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব আছেন তারা সকলে মিলে নতুন আইডিয়া নিয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এসব বিষয়ে অল্প সময় নিয়ে হলেও বলতে হবে। কারণ বখাটেপনার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন ঝরে যাচ্ছে।
মিজানুর রহমান আরো বলেন, চাঁদপুর জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ প্রবাসে কর্মসংস্থান নিয়ে আছেন। কিন্তু তাদের পরিবারের কি অবস্থা, তারা কোন সমস্যায় আছে কিনা সেই খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে না। বৈদেশিক কর্মংস্থানের যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাজ করা দরকার।
এসময় বক্তব্য রাখেন এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক মো. আজিজুল হক, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়াল হোসেন, চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার ইবনে সাইদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি, জেল সুপার মো. মাইনুদ্দিন ভুঁইয়া, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আসম মাহবুব-উল-আলম লিপন, শাহরাস্তি পৌরসভার মেয়র হাজি আব্দুল লতিফ, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুস, দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম জহিরুল হায়াতসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।