ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় চাষকৃত মাছ মরে ভেসে উঠেছে

আড়াইশ’ চাষির ৫ কোটি টাকার ক্ষতি

এস এম সোহেল
চাঁদপুর শহরের মেঘনা সংযুক্ত ডাকাতিয়া নদীতে গত ৩ দিনে ৫ কিলোমিটার এলাকায় খাঁচায় চাষকৃত মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে আড়াইশ’ চাষির আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। চাষের সাথে জড়িত মালিক ও শ্রমিক মিলিয়ে কমপক্ষে ৪ শতাধিক মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়েছে। মাছ মরার কারণ পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে শহরের রঘুনাথপুর ডাকাতিয়া নদীতে ছুটে যান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানসহ চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের একাধিক গবেষক।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিক্রির উপযোগী খাচার মধ্যে মাছ মরে ভেসে আছে। আবার কেউ কেউ এ মাছ তুলে পাড়ে নিয়ে ৬০ টাকা ধরে বিক্রি করছেন। এছাড়া দেশীয় প্রজাতির মাছও মরে ভেসে আছে। বিষাক্ত ক্যামিক্যাল, নদীতে প্রচুর পরিমাণে ঝাঁক ফেলা ও প্রচুর পরিমাণে কচুরীপানা রয়েছে। এসব কারণেও মাছ মারা যেতে পারে বলে মনে করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এছাড়া তিনি নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে পানি পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে গেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- মো. আলমগীর মিয়াজী, সোহেল মিয়াজী, শাহনাজ আলমগীর, মো. আলমগীর, হুমায়ুন বেপারী, শাহ আলম মাঝি, শামছু কাজী, সাহেদ কাজী, মো. তাজুল গাজী, মো. মনির গাজী, মো. রাজন খান, মো. দেলওয়ার হোসেন, মো. সাহেব আলী, মো. খোকন গাজী, মো. জাকির খান, মো. খান, রুহুল আমিন কাজী, বিল্লাল খান, মাসুম কাজী, আল আমিন বেপারী, বিল্লাল খান, মসুম গাজী, বাচ্চু হাজি, কাউসার কাজী, বাচ্চু গাজী, মো. মাস্টার, আহম্মদ বকাউল, মুসলিম বেপারী, রাসেল শেখ, জহির বকাউল, রাসেল গাজী, স্বপন বেপারী, আজিম বেপারী, কবির বেপারী, শহীদ বেপারীসহ আরো অনেকে।
মাছ চাষি মো. আলমগীর মিয়াজী বলেন, ২০০২ সালে ডাকাতিয়া নদীতে সর্বপ্রথম খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়। এরপর এই পদ্ধতি সারাদেশে মডেল হিসেবে নেয়া হয়। এখন চাঁদপুর শহর অঞ্চলে প্রায় ২শ’ ৫০ মাছ চাষি রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে তাদের খাঁচায় স্বল্পসংখ্যক মাছ মরলেও গত ৩ দিন ধরে আস্তে-আস্তে খাঁচায় থাকা সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এসব মাছ খাওয়ার উপযোগী নয়। কিভাবে পানি দূষণ হলো তা আমরা বলতে পারছি না।
চাষি মো. তাজুল ইসলাম ও সোহেল বলেন, এই অঞ্চলের প্রত্যেক চাষির ৮ থেকে ১০টি করে খাঁচা রয়েছে। এসব খাঁচায় তেলাপিয়া, রুই, কই ও পাঙ্গাস মাছ চাষ করা হয়। ৩ দিনে পানি দূষণ হওয়ায় সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। আমাদের সবার বিনিয়োগ এখন পানির সাথে ভেষে গেলো। চাষের জড়িত সবাই এখন বেকার হওয়ার পথে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে এমোনিয়ার মাত্রা বেড়ে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মাছগুলো মরেছে। এছাড়া নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে দু’টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যামিকেল ও ফার্নেস ওয়েল মিশ্রিত পানির প্রভাবেও মাছ মারা যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ঘটনাস্থল এলাকা থেকে মরা মাছ, পানি ও মাটি সংগ্রহ করেছি। মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মাছ মরার কারণ বলা যাচ্ছে না। আমাদের এক্সপার্টরা পানি, মাটি ও মরা মাছগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন। আগামি দু’দিনের মধ্যে মাছ মরার কারণ জানা যাবে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের খাঁচায় মাছ চাষে ২৫০ জন চাষি রয়েছেন। তাদের এই মৎস্য খামার কাজে ৪শ’ শ্রমিক জড়িত রয়েছে।

০৯ অক্টোবর, ২০১৯।