মাহ্ফুজ মল্লিক
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ওই দেশটির কেপটাউন শহরের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দারিন্দা রসুলপুর গ্রামে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম জিয়াউর রহমান (৩২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত ওয়ালীউল্লাহ সরকারের বড় ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মাগরিব নামাজ আদায় করতে দোকানে তার এক কর্মচারীকে রেখে তিনি বাসায় চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর দু’তিনজন সন্ত্রাসী এসে ওই কর্মচারীর মাধ্যমে খবর দিয়ে পুনরায় তাকে দোকানে আসতে বলেন। তিনি সেখানে যাওয়া মাত্রই দু’জন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশ গুলিবিদ্ধ হয়। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
জিয়াউর রহমানের স্ত্রী তানজিনা আক্তার বলেন, সোমবার মধ্য রাতে তার স্বামীর ভাগনে মো. সাজ্জিদ ঢাকা থেকে ফোন করে তাকে ঘটনাটি জানান। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ও তার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। স্বামী বরাদ দিয়ে তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তার দোকানে এসে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেন। এতে তিনি অপারগতা জানালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
স্থানীয়রা জানান, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নিউ হোস্টেল এলাকায় একটি ভাড়া করা বাসায় মেয়ে জিনিয়া আক্তারকে (১৮ মাস) নিয়ে থাকছেন তিনি। স্বামীর পাঠানো টাকায় সংসারের যাবতীয় খরচ মেটানো হতো। এখন স্বামীর মৃত্যুতে তার সংসারের হাল কে ধরবে? স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বড়ই বিপাকে পড়েছেন তিনি। বিদেশে জিয়াউর গেলেন আয়-রোজগার করতে। আর এখন ফিরবেন লাশ হয়ে। এ কষ্ট মেনে নেয়া কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জিয়াউর রহমানের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আগামি বুধবারের কোনো এক সময় তার লাশ দেশে আসবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে জিয়াউর রহমান দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সে দেশের রাজধানী কেপটাউনে নিজে একটি মুদি ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান খুলে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ৭ নভেম্বর তিনি দেশে আসেন এবং কিছুদিন থেকে ২০ জুন পুনরায় সেখানে চলে যান।
২৪ জুলাই, ২০১৯।