‘দ্বি-স্তর ক্রিকেট’ থেকে সরে আসলো আইসিসি

ভোরের চোখ, খেলার খবর: অবশেষ বাতিল হলো ‘দ্বি-স্তর বিশিষ্ট টেস্ট’ পরিকল্পনা। বুধবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা বাতিল করার কথা জানায়। এই পরিকল্পনায় ছিল টেস্ট ক্রিকেটকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়া। যেখানে প্রথম স্তরে থাকবে র‍্যাঙ্কিংয়ে এক থেকে সাতে থাকা দলগুলো। যারা শুধু নিজেদের মাঝে খেলবে টেস্ট ম্যাচ। বাকি তিন দল ও কন্টিনেন্টাল কাপের চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে দ্বিতীয় স্তরে টেস্ট। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় আরো ধস নামতো। আর নিচের সারির দলগুলো হতো ক্ষতিগ্রস্ত। মুখ থুবড়ে পড়তো বিশ্ব ক্রিকেট। অনেকেই হয়তো ক্রিকেটে আগ্রহই হারিয়ে ফেলত!

এই পরিকল্পনা উত্থাপনে যেমন ছিলো ভারতের আগ্রহ, আবার বাতিল হওয়ার পেছনেও আছে ভারতের অনাগ্রহ। বিশ্ব ক্রিকেটে অলিখিতভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে বলা হয়ে থাকে আইসিসির চেয়েও ক্ষমতাধর।

দুই বছর আগে যখন এই প্রস্তাব উঠেছিল তখন বিশ্ব ক্রিকেটে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। তখন বিসিসিআই ও আইসিসির প্রধান কর্তা ছিল বিতর্কিত এন শ্রীনিবাসন। তার ক্ষমতার কাছে অন্যরা ছিলেন অনেকটা অসহায়। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে তিনি ক্রিকেটকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এই তিন দেশের জন্য বেশি রাখার প্রস্তাব এসেছিল। বিশ্ব ক্রিকেটে এই তিন দেশের পরিচিতি পেয়েছিল ‘তিন মোড়ল।’ কিন্তু আদালতের নির্দেশে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে শ্রীনিবাসন ক্ষমতা হারালে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। বিসিসিআইয়ে প্রথমে দায়িত্বে আসেন ক্রিকেটের বিশ্বায়নের রূপকার জগমোহন ডালমিয়া। তখনই শ্রীনিবাসনের নেয়া বিতর্কিত প্রস্তাবগুলো ক্রমেই আঁধারে চলে যেতে থাকে। পরে ডালমিয়া মারা গেলে তার স্থলাভিষিক্ত হন অনুরাগ ঠাকুর। পরে তিনি আইসিসির প্রধানেরও দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও ডালমিয়ার মতো এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন। কয়েকদিন আগে অনুরাগ ঠাকুর এই প্রস্তাবের বিপক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তার পরই আইসিসির কাছ থেকে আসে দ্বি-স্তর টেস্ট পরিকল্পনা বাতিল করার ঘোষণা।

অবশ্য এই প্রস্তাব যাতে বাস্তবায়ন না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল। শুরুতে এই প্রস্তাবের পক্ষে খুব কম দেশকেই পেয়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ছিল বাংলাদেশের মিত্র। কিন্তু যখন প্রস্তাব বাতিল হয় তখন পক্ষে ছিল শুধু নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। প্রস্তাব বাতিল হওয়াতে এখানে বাংলাদেশেরও জয় হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘প্রস্তাবটি বাতিল হওয়াতে আমরা খুবই খুশি। আমরা অন্য সব দেশকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, এই প্রস্তাব ক্রিকেটের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তার জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে আমি আইসিসির ম্যানেজমেন্টকেও এই প্রস্তাব বাতিল করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

ভোরের চোখ২৪/আরজে