ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে না পারার কারণে প্রকাশ্যে ধানে আগুন দেয়ার প্রতিকি প্রতিবাদের দু’দিন পর খাদ্য গুদামেই সেই ধান বিক্রি করলো ৪ কৃষক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি শেষে কৌশলী ও প্রতিকি প্রতিবাদের কথা স্বীকার করে ওই কৃষকরা জানান, এই কাজ না করলে হয়তোবা তারা ধান বিক্রি করতে পারতেন না।
এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পেরে এই প্রতিকি প্রতিবাদের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনাটির মূল কারণ বের করতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতা আফরিন তদন্ত কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে থেকে প্রতি মণ ধান প্রায় ১ হাজার ৯০ টাকায় ক্রয় শুরু হয়। ফরিদগঞ্জের একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ন থেকে মোট ৭শ’ ৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রূপসা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক থেকে মোট ৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহদ গ্রামের কৃষক সহিদুল্লা (২৫), মোশারফ (২৬), সুমন (২৪) ও রাকিব (২৩) সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি মণ ধান প্রায় ১ হাজার ৯০ টাকায় বিক্রি করার জন্য খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা পরপর তিনবার ধানের স্যাম্পল দেখানোর জন্য উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে আসে। প্রথমে আর্দ্রতা বেশি থাকার সেগুলো শুকিয়ে পুনরায় দেখানোর পর কর্তৃপক্ষ ওই ইউনিয়নের ধান ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত দিন গত ৬ আগস্ট ধান নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু তারা ওইদিন না এসে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বিক্ষুব্ধ এই কৃষকরা প্রতিকি প্রতিবাদ হিসেবে তারা ওই গ্রামে ধানের উপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তা ফেসবুক বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
কৃষক সহিদুল্ল্যাসহ অন্যরা ধানে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আমরা জেনেছি ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান নেয়ার কোটা শেষ। তাই প্রতিকি প্রতিবাদ হিসেবে ধানে আগুন দিয়েছি। যাতে কর্তৃপক্ষ আমাদের ধানগুলো ক্রয় করার ব্যবস্থা নেয়। নাহলে আমরা এই ধান নিয়ে বিপদে পড়বো।
সংবাদ পেয়ে গত বুধবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম ও মো. ফখরুল ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ধানে আগুন দেয়ার কারণ জানতে চান কৃষকের কাছ থেকে।
এ ব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, তারা নির্ধারিত তারিখে ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে হাজির না হয়ে প্রতিকি প্রতিবাদ দেখানোর জন্য এই কাণ্ড করেছেন।
উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন সাহা জানান, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক থেকে মোট ৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। গত ৬ আগস্ট ছিল এই ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার নির্ধারিত তারিখ। কিন্তু ওই ৪ কৃষক ঐ তারিখে না এসে ধানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটায়। পরবর্তীতে ইউএনও’র নির্দেশে ৪ কৃষকদের ধান বৃহস্পতিবার ক্রয় করে গুদামজাত করেছি।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতা আফরিন জানান, বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিক কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তাছাড়া ঘটনার কারণ বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করবো। ওই কৃষকরা ধান বিক্রি শেষে আমার কাছে মুঠোফোনে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
০৯ আগস্ট, ২০১৯।