শওকত আলী
চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম ও ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা পশ্চিম নাজিরপাড়া ছৈয়ালবাড়ি (আলী রাজা জামে মসজিদ এলাকা) রাস্তায় এখন গর্তের পর গর্তে পরিণত হয়েছে। হাজারো এলাকাবাসীর জন্য এখন রাস্তাটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এ রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ঢেবে গেছে, ফেটে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে বড়বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট ও বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। যে কোন সময় এ রাস্তাটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। এলাকার সচেতন মহল কোনপ্রকার বড় ধরনের ঘটনা ঘটার আগে জরুরিভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘনবসতিপূর্ণ রাস্তাটির দিকে নজর নেই এলাকার জনপ্রতিনিধির। এলাকাবাসী এ এলাকার জনপ্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি জানানোর পরও তিনি এ রাস্তাটি দেখতে আসেননি এবং সমস্যা সমাধানে কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে এলাকাবাসীর মধ্যে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুর ১২নং পৌর এলাকার কাউন্সিলর হাবিব দর্জি।
সরেজমিনে ছৈয়ালবাড়ি রোডস্থ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শহরের মিশন রোড থেকে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রেইনবো হাসপাতালের পাশ দিয়ে এ রাস্তাটি প্রবেশ করে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছন দিয়ে বের হয়ে রাস্তাটি হাজী মহসিন রোডের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। যার ফলে রাস্তাটির গুরুত্ব বেড়ে গেছে।
এখান দিয়ে এলাকাবাসী ছাড়াও নাজির পাড়ার শতশত মানুষ সংক্ষিপ্ত রাস্তা হিসেবে এটি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া স্কুল-কলেজে পড়–য়াও শতশত শিক্ষার্থী এ রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন স্থানের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বেছে নিয়ে ব্যবহার করে থাকেন।
এতে করে শিশু, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, নারী ও শিক্ষার্থীরা এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় শিশুরা ও বয়ঃবৃদ্ধরা যাতায়াতকালে দিনে-রাতে গর্তে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়ে পড়ছেন। এভাবে গর্তে পড়ে প্রাণহানির আশংকা করছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে এ এলাকার বহু বছরের পুরাতন মসজিদ আলী রাজা জামে মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে এসে রাস্তায় হোচট্ খেয়ে পড়তেও দেখা গেছে।
মুসল্লিরা জানান, প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে চরমভাবে দুর্ভোগে পড়ে। এ এলাকার রাস্তাটিতে কিছুদিন পরপর আন্ডার গ্রাউন্ড ড্রেনের পাইপ ভেঙে গিয়ে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং সমস্যাটি এখন নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়ে আছে। এ সমস্যা নিরসনে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর আগে বিগত পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের সময় পুরো চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ করা হয়। সে সময় ঠিকাদার আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ করতে গিয়ে একেবারে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করায় সে পাইপ এখন ফেটে বা ভেঙে যাওয়ায় শুধু নাজির পাড়া নয় শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তায় এ সমস্যাটি এখন নিত্য সমস্যায় পরিণত হয়ে পড়ছে।
ভেঙে পড়া পাইপ দেখে কয়েকজন ঠিকাদার তাদের নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, শহরে যে আন্ডার গ্রাউন্ড ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে তখন যে পাইপ ব্যবহার করা হয় সে পাইপ নিম্নমানের হওয়ায় মাটির চাপ লোড নিতে না পেরে সেগুলো ভেঙে ও ফেটে যাচ্ছে। এসব পাইপ ড্রেনে যতদিন থাকবে ততদিন শহরে এ অবস্থার বিরাজমান থাকবে।
এ বিষয়ে বর্তমান পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিগত সময় নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পৌরবাসীর প্রয়োজনে আমার বর্তমান পরিষদ ভালভাবে কাজ করে মানুষের কল্যাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যে যে স্থানে পাইপের কারণে ড্রেনের ও রাস্তার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা বর্তমান পরিষদ দেখবে ও ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
