নীলকমল মধ্য চরে আবারও মাটি খেকো চক্রের হানা

হাইমচরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল হুমকির মুখে

সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মধ্যচরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবারো সেই মাটি খেকো চক্র হানা দিয়েছে। এবার সবদিক ম্যানেজ করেই বড় পরিসরে মাটি কেটে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে নীলমল ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে একেবারেই মুছে যাচ্ছে ৭নং ওয়ার্ডের শিকদারকান্দি নামক একটি গ্রামটি। হুমকির মুখে পড়ছে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নীলকমল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড শিকদারকান্দিতে ৪ থেকে ৫টি ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে এ মাটি খেকো চক্রটি। তারা মাটি কেটে জাহাজে করে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ ইটভাটায় বিক্রি করছে। চক্রটি হচ্ছে মোটা অংকের টাকার লাভবান হলেও ধ্বংস হচ্ছে নীলকমল ইউনিয়ন। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারি জায়গা, বিলীন হচ্ছে একটি গ্রাম।
খবর নিয়ে জানা যায়, এ মাটি খেকো চক্রের মূল হোতা কল্যাণপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রনি। যার নেতৃত্বে এ চক্রটি উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের লোকজনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে মাটি বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে মাটি খেকো চক্রের সাথে নীলকমল ইউনিয়ন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারাও জড়িত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, আপনাদের লেখনির মাধ্যমে এই চর রক্ষা পেয়েছিল। তখন রতন হাজি বাঁধা দেওয়ায় তারা মাটি কাটতে পারেনি। এখন তারা রতন হাজিকেও ম্যানেজ করে নিয়েছে। শুনেছি উপজেলার বড় এক নেতার মাধ্যমে আপনাদেরও ম্যানেজ করেছে। আমরা হাত জোর করে অনুরোধ করছি ক্ষণিকের কিছু টাকার জন্য আপনাদের বিবেক বিক্রি করবেন না। আপনাদের মাধ্যমেই প্রশাসন এ চক্রটিকে আটক করে এর সাথে জড়িত সব নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করবে। আমাদের মাটি রক্ষায় আপনাদেরসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
ইউপি সদস্য রতন মাল জানান, আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছি সেই মাটি খেকোরা আবারো আমার ওয়ার্ড থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমি এ মাটি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতন হাজি জানান, মাটি কাটার সংবাদ জানতে পেরে তা এখন বন্ধ করে দিয়েছি। চরের মাটি কেটে নিতে দেয়া হবে না।
নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সউদ আল নাসের জানান, আমার ইউনিয়নে মাটি কাটার সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ইউএনও সাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আমাকে মেম্বার ও চকিদারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করার জন্য বলেছেন। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এ মাটি খেকো চক্রকে প্রতিহত করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী বলেন, মাটি কাটার সংবাদ পেয়েছি। মাটি কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

৩০ নভেম্বর, ২০২২।