পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করে আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করবো

চাঁদপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

এস এম সোহেল
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অর্থনীতিবিদ, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধির যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে সে ধারাটা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। এজন্য আমরা কৃষি ও শিল্প উন্নয়নে বিশেষ নজর দেব। সরকারের সোনার বাংলা তৈরি করতে পরিকল্পনার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করে আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করবো। আপনারা সাংবাদিকরা আপনার এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নের কথা নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবেন। এতে আমার জন্য কাজ করতে সহজ হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমি একজন কলামিস্ট। আমার লেখা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে আসছে। এজন্য আমি বলব, আমি আপনাদের পরিবারের একজন। আমি কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে মন্ত্রী হইনি। সরাসরি আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য সারা দেশের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করবো। কারণ, সারা দেশ থেকে আমার বেতন-ভাতা আসে। তবে আমি আমার নিজ জেলা চাঁদপুরের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেব।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব যেন সৎ ও নিষ্ঠাভাবে সবসময় দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারি, আপনারা দোয়া করবেন। প্রধানমন্ত্রী আমলা থেকে আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আমি নির্বাচন ছাড়া সরাসরি প্রতিমন্ত্রী হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমাদের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হবে। আমাদের স্বপ্নের বিস্তারিত চিত্র তৈরী করেছি। এখন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। চমৎকার পরিকল্পনার কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়নিষ্ঠার মাধ্যমে আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুর করোনায় ছিল রেড জোন। আমাকে করোনাকালীন সময়ে চাঁদপুর আসতে বারণ করা হয়েছে। কিন্তু আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবার পর কখন আসবো সেই চিন্তায় ছিলাম। আমি সাংবাদিকদেরই একজন। আমি এখনও সময় পেলে কলাম লিখি। আর কলামিস্টরা সাংবাদিকদের অংশ। আমার সংকলনে ১৩টি বই বের হয়েছে। আপনারা সবসময় সমস্যা, বস্তুনিষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য তুলে ধরবেন। এতে আমাদের কাজ করার সুবিধা হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, দেশের কোথাও কোথাও সরকারি প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যে বিরোধ দেখা যাচ্ছে তাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা সবাই দেশপ্রেমিক। তবে সম্পর্ক অবনতির জন্য যদি কেউ দায়ী হন সেজন্য আইন হওয়া দরকার এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এমন বৈরিতা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্যদেশেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে আগামি ২০৪১ সালে দারিদ্র্যতা বলতে কিছুই থাকবে না। তখন এই শব্দটি ইতিহাসের বইয়ে লিপিবদ্ধ হবে। বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধরনের উন্নয়ন চলছে।
প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম চাঁদপুরসহ সারাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণা দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া থেকে মতলব হয়ে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী পর্যন্ত আরেকটি বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একটা সময় যেকোন কাজে আমরা সরকারের উপর নির্ভর ছিলাম। সবকিছুই কেবল সরকারের কাছে চাইতাম। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টেছে। দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে বেসরকারি খাতও শক্তিশালী হয়েছে। দেশের অনেক বড় বড় কাজ বেসরকারি খাত থেকে হচ্ছে। এক সময় এদেশে ৮৭ ভাগ বিনিয়োগ বিনিয়োগ ছিলো সরকারের, আর এখন ৮১ ভাগ বিনিয়োগ আসে বেসরকারি খ্যাত থেকে। এটি সম্ভব হয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় দেশের অগ্রযাত্রার কারণে।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের কাজ হবে রেফারির কাজ। সরকার নিজে খেলোয়াড় হলে হবে না। রেফারি হয়ে খেলোয়াড়দের জন্যে সরকার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে দিবে। বর্তমানে দেশের প্রবৃদ্ধির যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে সেটি ধরে রাখতে হবে। এজন্য আমরা কৃষি ও শিল্প উন্নয়নে বিশেষ নজর দেব। সরকারের সোনার বাংলা তৈরি করতে পরিকল্পনার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করে আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করবো।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক জালাল চৌধুরী, শরীফ চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী, এএইচএম আহসান উল্লাহ, সাংবাদিক অধ্যাপক দেলোয়ার আহমেদ, ফারুক আহমেদ, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, ফটো জার্নালিস্ট এসোশিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়েরসহ আরো অনেকে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম চাঁদপুরে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। পরে মন্ত্রী প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান এবং চাঁদপুর বড়স্টেশন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন।
২৭ আগস্ট, ২০২১।