পুরাণবাজার হরিসভা এলাকা পরিদর্শন শেষে সমাবেশে এনামুল হক শামীম


চাঁদপুর-হাইমচর রক্ষায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজ করা হবে

এস এম সোহেল
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, যে কোন মূল্যে মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুরকে রক্ষা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর ও হাইমচর উপজেলা স্থায়ীভাবে রক্ষাকল্পে ১১শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ার পরই চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে। ১১শ’ কোটি টাকায় যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হয়, প্রয়োজনে ১৫শ’ কোটি টাকা এ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এই বছরের মধ্যে কাজ শুরু করবো, ইনশাআল্লাহ।
এসময় তিনি জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কাজটি যাতে করে সেনাবহিনী মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয় সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করা হবে বলে জানান। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকা পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, নদী ভাঙার কারণে আমার ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি নড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করি। আমার যখন ২ বছর বয়স তখন নদী ভাঙার কারণে আমার দাদাকে নড়িয়া থেকে এসে সখিপুরে বাড়ি করতে হয়। এখন আমি সখিপুরের বাসিন্দা। চাঁদপুর শহর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ মিটার এলাকা গত ২ দিনে ভেঙে গেছে। ভাঙার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আপনাদের সন্তান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির স্বামী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন সেখান থেকে আমার সাথে বার বার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ৮০ মিটার জায়গায় ১০ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেললে ভাঙন বন্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে আমরা ১৫ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করবো। যেকোন মূল্যে চাঁদপুরের মানুষ ও হরিসভা এলাকাকে রক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১২ আগস্ট ঈদের ছুটি বাতিল করেছি। কর্মকর্তারা এবং যারা কাজ করবেন তারাও প্রয়োজন হলে এখানে থাকবেন। আমরা ১০ হাজার জিও ব্যাগ আগাম স্টক এখানে রাখা হবে। প্রয়োজনে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে ডাম্পিং করতে পারি।
উপমন্ত্রী বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা চাঁদপুরের মানুষের পাশে সবসময় আছি। নদী ভাঙা রক্ষায় আমাদের যা যা করা দরকার আমরা আপনাদের পাশে থেকে করবো। ৯ আগস্ট থেকে আমি আমার এলাকা নদীর ওপারে থাকবো। প্রয়োজন হলে আমি ১০ মিনিটের মধ্যে ছুটে আসবো। ছোট বেলা থেকে চাঁদপুর শহরের প্রতি আমাদের মায়া। আমাদের অনেক লোকজন চাঁদপুরে বসবাস করে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা চাঁদপুর স্কুল-কলেজে লেখা-পাড়া করে। যে কোন মূল্যে চাঁদপুরকে রক্ষা করতে হবে। চাঁদপুর ও হাইমচর উপজেলা স্থায়ীভাবে রক্ষাকল্পে ১১শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা একটি দাবি করেছেন- সেনাবাহিনী দিয়ে নদী ভাঙনের কাজ করানোর জন্য। সেনাবাহিনী আমাদের অংশ। সারাবিশ্বে সেনাবাহিনীর সুনাম রয়েছে। আপনাদের সৌভাগ্য সেনাবাহিনীর প্রধান এবং পুলিশ প্রধান চাঁদপুরের সন্তান। আমি সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে বলবো ১১শ’ কোটি টাকার প্রকল্প সেনাবাহিনী দিয়ে কাজ করার ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ যা বলে তা করে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী আমরা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই এবং তা বাস্তবায়ন করি। আমি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, পদ্মা সেতু ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। শেষ মেয়াদে আপনাকে দিয়ে মেঘনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করবো। আপনাদের বাড়ি আর আমাদের বাড়িতে আমরা গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করবো। ৫ বছর পরে চাঁদপুর-শরীয়তপুরে আমরা গাড়ি নিয়ে চলাচল করবো ইনশাআল্লাহ। মা-বোনদের এবং আমাদের ভাই-বোনদের বিয়ের বাজার করতে আর ট্রলারে আসতে হবে না। সেতু দিয়ে করবো।
তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি সাংবাদিক বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই। তারা সবসময় পাশে ছিলেন এবং সব বিপদে আমাদের সাথে থাকবেন। আপনাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সাথে নির্বাচনে নদী ভাঙন রোধে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আগে চাঁদপুর-হাইমচর রক্ষায় বাঁধ দিয়েছিলেন। পুরাণবাজার হরিসভা নদী ভাঙনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমাদের সবাইকে প্রিয় চাঁদপুরকে ভালোবাসতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদপুরকে রক্ষা করবো।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম স্যারকে। তিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও চাঁদপুর ছুটে এসছেন। আমি লক্ষ্য করেছি আগের মতো ঝুঁকি আর নেই। বর্তমান সরকার এ ধরনের ভাঙনকে প্রতিরোধ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত আছে। পুরাণবাজার ভাঙনের সাথে সাথে জিও ব্যাগ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে সরকার কাজ করছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পুরো টিম চাঁদপুর পুরাণবাজারে অবস্থান করছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, নরসিংহপুর আমাদের জায়গা ছিলো, তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আপনাদের মনের আশা কি সেই ঘোষণা দিয়ে আমাদের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। এখানে শুধু ধর্ম, বাড়ি-ঘর ও প্রতিষ্ঠান নয় এখানে অনেক গুরত্বপূর্ণ কল-কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চাঁদপুরবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) মোতাহার হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী (কুমিল্লা অঞ্চল) জহির উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিক দুই বান্ডেল টিন ও নগদ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

০৬ আগস্ট, ২০১৯।