এস এম সোহেল
চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির। গত শুক্রবার বেলা ১১টায় স্পীডবোড যোগে তিনি ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি নদী ভাঙন কবলিত লোকজনদের সাথে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন।
এসময় তাঁর সাথে ছিলেন চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশীদ, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ, যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বেপারী, এমবি কান্দি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বাচ্চুসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী।
পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির বলেন, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের মতে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার স্থানচ্যুত হয়েছে। ইউনিয়নের আরেকটি চর জেগেছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ততের পুনঃর্বাসনের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি আমাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করবো, যাতে ক্ষতিগ্রস্তনের জন্য সরকার কিছু করে।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হযরত আলী বেপারী বলেন, প্রতি বছরে বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর স্রােতে রাজরাজেশ্বর ভাঙ্গে। এখন আমাদের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে ভাঙছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় আড়াইশ’ পরিবারকে শুকনো খাবার এবং ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছে। ৪ শতাধিক পরিবার এ পর্যন্ত নদী ভাঙনের শিকার। দেড়শ’ পরিবার এখনো কোন সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি। আমরা আশা করি অচিরে সব ক্ষতিগ্রস্তরা যেন সাহায্য-সহযোগিতা পায়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার হঠাৎ মেঘনা নদীর পানির প্রবল স্রােতের সৃষ্টি হয়ে ভাঙন শুরু হয়। এতে ভাঙনের কবলে পড়ে ইউনিয়ন পরিষদ, রাজরাজেশ্বর মোজাফ্ফরিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বলাশিয়া জিকে সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়, ইউনিয়নের ঢালীর বাজার, দেওয়ান বাজার, লগ্মীমারা ও বন্ধুকসী বাজার এলাকার তিন শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। নদীপাড় ধস অব্যাহত থাকায় ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো অনেক ঘর-বাড়ি।
০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।