প্রতিবন্ধী ইয়াছিনের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন পূরণ হলো

জেলা প্রশাসকের উদারতা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে প্রতিবন্ধী ইয়াছিন মিয়া ভিক্ষাবৃত্তি বাদ দিয়ে কর্মের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর স্বপ্নটি পূরণ হলো জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সহায়তায় ও উদারতায়। ইদানিং চাঁদপুরে একটি কথা প্রচলিত ও স্বীকৃতি পেয়েছে অসহায়দের একমাত্র ভরসা ও আশ্রয়ের স্থল হচ্ছে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
তারই প্রতিফলন দেখালেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. ইয়াসিন মিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তিনি প্রতিবন্ধী মো. ইয়াসিন মিয়ার অসহাত্বের কথাগুলো অত্যান্ত আপন মনে শুনে তাকে ব্যবসা করার অর্থ ও সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায় ছোট্ট দোকান করে সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে প্রতিবন্ধী মো. ইয়াসিন মিয়ার স্বপ্নপূরণে মুখে ও হৃদয়ে যেমন হাসি ফুটালেন, তার সাথে নিজে এ উদারতা দেখিয়ে অধিক প্রশংসার দাবিদার হয়ে প্রশংসা কুড়ালেন জেলাবাসী তথা দেশবাসীর কাছে।
কথা উঠেছে তিনিই হচ্ছে, প্রকৃত সত্যিকারের মহৎ ও হৃদয়বান মানুষ। যেখানে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর ভিক্ষা ছাড়া বাঁচার কোন বিকল্পনেই। সেখানে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ সে ব্যাক্তিকে ভিক্ষার হাত থেকে রক্ষা করে তার নিজের কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উপার্যন করে বাঁচার পথ প্রদর্শক হিসেবে নিজের একটু সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. ইয়াসিন মিয়ার পরিবারকে বেঁচে থাকার পথ দেখালেন।
তিনি এ উদারতা দেখিয়ে চাঁদপুরবাসীকে সব জেলাবাসীর কাছে ধন্য করেছেন। তার এ কাজের মাইল ফলক ও মডেল হিসেবে এখন সারা দেশের সব হৃদয়বান কর্মকর্তারা এগিয়ে আশার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলেন চাঁদপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
শারীরিক প্রতিবন্ধী ইয়াসিন মিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় সে এখন মহাখুশি ও আনন্দে আত্মহারা উল্লাসিত। তিনি বলেন, আমার মত যারা অসহায়, তাদেরকে আপনারা সমাজের বৃত্তবানরা যদি একটু সুদৃস্টি দিয়ে দেখের তবে তারা এ পৃথিবীতে ভালভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে বাঁচতে পারবে। আপনারাও মহান আল্লাহ্ কাছে ভাল এক মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন এবং পরকালে শান্তিতে থাকবেন বলে আমার বিশ্বাস।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সহায়তায় একজন অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধীর মুখে হাসি ফোটলো। তিনি জানান, শুধু এমন একজন মো. ইয়াসিন নয়। ইচ্ছা শক্তি আছে অথচ পুঁজির অভাবে এগুতে পারছে না। প্রতিবন্ধীত্বের শিকার এমন আরো অসংখ্য মানুষের পাশে থাকতে চান তিনি। তিনি চাঁদপুরে যোগ দিয়ে গত ৮ মাস যাবৎ মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ষোলদানা এলাকার বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. ইয়াসিন মিয়া। শারীরিক ও আর্থিক দুরাবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবে উপার্জনে অক্ষম হওয়ায় পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করতেন।
তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক গরীর-দুখী মানুষের কথা শোনেন, তাদের পাশে দাঁড়ান। তাই একদিন সাহসের উপর ভর করে জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল মোবাইলে ফোন করেন। তিনি ভাবতে পারেননি তারমত গরীবের কথা জেলা প্রশাসক মন দিয়ে শুনবেন।
ইয়াসিন তার দুরাবস্থার কথা সব বিস্তারিত খুলে বলেন। তিনি বলেন আমি প্রতিবন্ধী, আমি ভিক্ষা করে খেতে পারতাম কিন্তু আমি নিজে রোজগার করে খেতে চাই।
বাজারে সরকারি জায়গায় আমার ছোট্ট একটা অস্থায়ী দোকান আছে, আমি বন্দোবস্ত পেয়েছি কিন্তু এখন আমাকে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন তুলে দিচ্ছে। আমাকে আপনি যদি সহায়তা না করেন আমার মত অসহায়ের বাকী জীবন ভিক্ষা করেই খেতে হবে। তারপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ দোকানঘর উচ্ছেদ বন্ধ করে দিয়ে উচ্ছেদকারীদের হুশিয়ারী দেন, যাতে ভবিষ্যতে শক্তিহীন ব্যক্তির সাথে অন্যায়ভাবে শক্তি প্রদর্শন না করা হয়।
ইয়াছিন মিয়ার দুরাবস্থা লাঘবে তাকে অস্থায়ীভিত্তিতে বন্দোবস্তকৃত দোকানঘরটি মেরামতে সাহায্য করেন। দোকানে নতুন মালামাল তোলার জন্য নগদ অর্থসাহায্য প্রদান করেন।
অবশেষে গতকাল বুধবার সেই ইয়াসমিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার দোকানঘরের ছবি তুলে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশকে দেখাতে আসেন। জেলা প্রশাসক তাকে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা দেখান ও আগামিতে আরো সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ গত ৮ মাস যাবত চাঁদপুরে যোগদানের পর এভাবেই অসংখ্য প্রশংসনীয় এবং মানবীয় কাজ অব্যাহত রেখে চলছেন।
২৬ আগস্ট, ২০২১।