প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুরের আয়োজনে জেলা ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের সাথে ‘করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে কার্যক্রমঃ
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা বুধবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সভাপতি শাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাব উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, করোনাকালীন সময়ে প্রাথমিকসহ সকল ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি যে নির্দেশনা তা হলো শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্কশীট দিয়ে আসা এবং সেগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা। কিন্তু সেখানেও শিক্ষকরা অনেক অবহেলা করছেন। ওয়ার্কশীট বিতরণ নিয়েও অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি পাঠদান প্রক্রিয়ার বিকল্প কিছুই নেই। তারপরও করোনা পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেক্ষেত্রে গুগল মীট ও ওয়ার্কশীট পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, এই করোনাকালীন সময়েও কোন শিশু যাতে শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয় সেটা নিশ্চিত করবো। ইতোমধ্যে প্রায় ৪২০০ জন শিক্ষক ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। আশা করছি বাকিরা ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে। তিনি জানান, চাঁদপুর জেলার ১১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরাম রয়েছে। প্রতিটি উপজেলার অন্তত মডেল স্কুলগুলোতে এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামকে আরও কার্যকর করার জন্য সনাক-টিআইবি’র সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বখতিয়ার বলেন, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাখাতে সরাসরি পাঠদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর জন্য। তিনি আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্কশীট বিতরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং শিক্ষকরাও সে মোতাবেক কাজ করছে। ওয়ার্কশীটগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যদি কোন কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে যেন শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশীটের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা সম্ভব হয়। তিনি করোনাকালীন এই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কিভাবে বেগবান করা যায় এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেনের সঞ্চালনায় করোনাকালীন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার এইচএম শাহরিয়ার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন, উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান সিদ্দিকী, উত্তর শ্রীরামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামের সহ-সমন্বয়কারী সুমি আক্তার প্রমুখ।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন দৈনিক মেঘনাবার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক গিয়াসউদ্দিন মিলন, দৈনিক চাঁদপুর খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, কালের কণ্ঠ ও সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ, সনাক সদস্য মো. আব্দুল মালেক ও জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল।
তারা বলেন, ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই করোনাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষার্থীর ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রয়োজন। আমরা দেখছি, কোন কোন ক্ষেত্রে এসএমসি ও পিটিএ কমিটির কোন ক্ষমতা নেই। কোন কোন স্কুলে শিক্ষকরা তাদের তেমন গুরুত্বও দেন না। সরকার এই করোনাকালীন সংকটেও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে রাখার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশীট শিক্ষকরা মুদি দোকানে রেখে যান বা তারা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে দপ্তরীর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি শাহানারা বেগম বলেন, এই করোনাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত হচ্ছে শিক্ষাখাত। তিনি বলেন, আমাদের হয়তো আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। আমাদের আরও ধৈর্য্য ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। আমাদের নিরাপদে থেকে স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি বলেন, সনাক-টিআইবির মূল উদ্দেশ্যই হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরী করা যাতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বজায় রেখে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরো বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা অ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামকে আরও বেশি কার্যকর দেখতে চাই। আশা করছি কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, এ্যাকটিভ মাদার্স ফোরামের সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি, জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতৃবৃন্দ, জলবায়ু বিষয়ক জনঅংশগ্রহণ কামিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সনাক-স্বজন-ইয়েস-ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও টিআইবি কর্মীবৃন্দ।
১৫ জুলাই, ২০২১।
