স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়াহাট এলাকার মধ্য চাঁদপুর গ্রামের মৃত আহসান খাঁনের ছেলে সৈয়দ আহম্মদ খাঁনের বিরুদ্ধে আপন ভাই আব্দুল মান্নান খাঁনের সম্পত্তি জোরপূর্বক অবৈধ দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও চাঁদাদাবির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন আপন ভাইয়ের অমানবিক নির্যাতন ও হয়রানিতে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে মান্নান খান। এসব ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বহুবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোন ধরনের সমাধান হয়নি। উল্টো সৈয়দ আহম্মদ খান তার ভাইকে একটার পর একটা সমস্যা সৃষ্টি করে বিষিয়ে তুলেছে।
সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে, স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে এবং ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সৈয়দ আহম্মদ খান একটি রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত এবং এলাকায় সালিসী বৈঠক করে বেশ প্রভাব খাটিয়ে চলেন। তার নির্যাতন ও হয়রানি থেকে আপন ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন কেউ রেহাই পায়নি। মানুষের সাথে প্রতারণা আর সম্পত্তি নিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরী এখন তার নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান খান বলেন, একসময় আমাদের দুই ভায়ের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু একসময় তিনি আমাদের সাথে অবিচার শুরু করেন। তিনি এবং আমি ১৯৮৮ সালে আবিদ মিয়ার কাছ থেকে চাঁদপুর মৌজার ১৫৬২ দাগে একসাথে বাড়িতে দু’টি দলিলে সাড়ে ৭ করে ১৫ শতাংশ ভূমি খরিদ করি। কিন্তু ওই সম্পত্তিতে আমি বসতঘর করতে গেলে তিনি আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, সৈয়দ আহম্মদ খাঁন এতেও ক্ষান্ত হননি। ১৯৯১ সালে ২৭৬নং চাঁদপুর মৌজার ২০৫৪ ও ২০৫৫ দাগে ১০ শতাংশ জমি খরিদ করি। কিন্তু আমার ভাই সৈয়দ আহম্মদ খাঁন ওই জমিতে জোরপূর্বক দখল করে মাছ চাষ করে আসছে।
এছাড়া সৈয়দ আহম্মদ খাঁন একই এলাকার কালু খানের স্ত্রী অহিদা বেগম শাহিদার কাছ থেকে ১৯৯৪ সালে ২৭৬নং চাঁদপুর মৌজার ১৫৫০ ও ১৫৪৮ দাগে ২৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এই সম্পত্তিতেও তার ১০ শতাংশ জমি আছে বলে ১৫ জুলাই অবৈধ দখলের চেষ্টা চালায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে ওই জমি দখল থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়ে আসেন।
আব্দুল মান্নান খাঁন আরো বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আপোষের মাধ্যমে বন্টক হলেও আমার ভাই সৈয়দ আহম্মদ খাঁন প্রত্যেকের সাথে জগড়া বিবাদ সৃষ্টি করে। সব ভাইদের সাথেই তিনি খারাপ আচরণ করেছেন। সম্পত্তি নিয়ে এই ধরনের বিবাদ তার এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার এই ধরনের কার্যক্রম এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার নির্যাতন, চাঁদাদাবি ও অবৈধভাবে অন্যের জমি দখল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই বিষয়ে সৈয়দ আহম্মদ খান বলেন, আমার ভাই যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক না। সবগুলো অভিযোগ সাজানো এবং বানোয়াট। আমার ভাই এলাকার লোক দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। ২০১৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত আমি তার বিরুদ্ধে আদালত ও থানায় ৫টি মামলা ও সাধারণ ডায়রি করেছি।
১৮ জুলাই, ২০১৯।