১০ হাজার বোরো চাষি চরম বিপাকে
নবী নোমান
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শোষকরা নানাভাবে মাছের চাষের নাম করে এবং সিআইপি বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের ফরিদগঞ্জ অংশের ৭৬টি ছোট-বড় খাল ও নদীর বেশিভাগ অংশ নামকাওয়াস্তে অবৈধ ইজারা নিয়ে বাঁধ দিয়ে বছরের পর বছর মাছের চাষ করছে। অপরদিকে দখলবাজ চক্রটি সেচের পানি চলাচলযোগ্য এমন বেশি কিছু খালের মূল অংশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। পরে খালগুলোর দু’পাশ ভরাট করে আস্তে-আস্তে ছোট-বড় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে বেশিরভাগ খাল দখল করে নিয়েছে ওই চক্রটি। ফলে সিআইপি বাঁধের অভ্যন্তরে ডাকাতিয়ার মূল নদীতে পানি থাকলেও শাখা খালগুলোতে অবৈধ বাঁধ ও খননের অভাবে পানি না থাকায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো চাষের এই মৌসুমে মারাত্মকভাবে পানি সংকটে দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়েছে ১০ হাজার ৮০ হেক্টর জমির বোরো চাষিরা।
কৃষকদের চরম এই অবস্থা দেখে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) এর অভ্যস্তরে ডাকাতিয়া নদী ও খাল খনন বাস্তবায়ন কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে খাল পুনঃখননের কাজ অব্যাহত রাখা, বোরোপিট খালের অবৈধ ইজারা বাতিল, সব বাঁধ-বাধা ও অবৈধ দখল অপসারণসহ ৭ দফা দাবি করে সরকারেরর কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত লক্ষ্মীপুর জেলা বাদে শুধু চাঁদপুর জেলার সদর, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জে মোট খালের সংখ্যা ১০৮টি। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলাই ৭৬টি। আমাদের দাবির মুখে ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের তড়িৎ উদ্যোগ এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা, সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি খালের পুনঃখননের কাজ চলছে। এছাড়া সিআইপির খালসমূহ পুনঃখনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও অন্যদের কাছ থেকে বোরোপিট খালের অবৈধ ইজারা বাতিল ও অবৈধ দখল মুক্তি করে পানি চলাচলে সব বাঁধা অপসারণ করা। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং কৃষি ঋণ ও এনজিও ঋণ মওকূপ করা। ডাকাতিয়া নদীর অবৈধ ইজারা বাতিল ও কচুরিপানা পরিস্কার করে মাছ-পানি-পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার-বীজ-কীটনাশক বিনামূল্যে সরবরাহ করা। বিএডিসিকে কার্যকর করতে হবে এবং ফরিদগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস পুনঃস্থাপন করা এবং লোকবল বাড়ানো। এর অন্যথায় হলে কৃষকরা উৎপাদনের পক্ষে, পাউবোর উৎপাদন বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে জমির মালিক, কৃষক, ইজারা, বর্গাচাষি ও ক্ষেতমজুররা লৌহদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তর গুপ্তের বিলের বর্গা চাষি শহিদ বেপারি এবং জমির মালিক চাষি সিরাজুল মিয়া জানান, আমাদের এলাকা একটু উচু হওয়ায় আমরা প্রতি বছর বোরো-আমন চাষের সময় পানি সংকটে পড়ছি। সেচের পানি যে খাল ধরে আমাদের জমিতে আসবে সেই খালগুলো অবৈধ দখল ও বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি চলাচলের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এখন পানি পাচ্ছি না। তাছাড়া আমাদের এলাকার খালগুলো দীর্ঘদিন খনন হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, আমাদের ফরিদগঞ্জ এলাকায় মোট ১০ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এবারে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ৮শ’ ৮৮ মেট্রিক টন। আমরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছি। কিন্তু পানি চলাচল সংকট এবং কৃত্রিম কিছু বাঁধার করণে কৃষকরা বোরোর মৌসুমে কিছুটা পানি সংকট হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া জানান, আমাদের বোরো চাষ এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহের বেশিরভাগ খাল দীর্ঘদিন খনন হয়নি। এছাড়া মানুষের সৃষ্ট কিছু সংকটের কারণে সেচ এলাকায় পানি সংকট হচ্ছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অবৈধ বাঁধ সরানোর শুরু করে দিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সার্বক্ষণিক আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
