বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আহমাদিয়া মাদ্রাসায় কর্মসূচি

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না…….আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী

স্টাফ রিপোর্টার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের সাথে দাঁড়িয়ে তিনি জাতীয় সংগীতে অংশ নেন। পরে তিনি সেখানে প্রাত্যহিক সমাবেশে জাতির পিতার জীবনী ও ১৫ আগস্ট সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১। যতগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছিল এদেশের মানুষের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে, অধিকার আদায়ে কিংবা স্বাধীনতা পাওয়ার বাসনায় তার অগ্রভাগের অন্যতম একজন ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের মানচিত্রটি যে কবি বাংলার শোষিত নির্যাতিত মানুষের হাতে তুলে দেন তিনি শেখ মুজিব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। কিন্তু আজ বেদনার্ত মনে বলতে হয়, যে মুজিবকে পাকিস্তানীরা ৯ মাস বন্দী করে কবর খুঁড়ে রেখেও মারতে পারেনি অথচ তাঁর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ দেশীয় কিছু ক্ষমতালোভী কুলাঙ্গার। তবে এখানেও ছিল দেশী-বিদেশী চক্রান্ত।
আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর দেশ শাসনে ছিলেন। পাকিস্তানি হায়নাদের দ্বারা লন্ডভন্ড করে যাওয়া এই স্বাধীন বাংলায় পা রেখেই বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে লেগে যান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে তিনি প্রচেষ্টা চালালেন। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আরবি তথা মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে মাদ্রাসা বোর্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ পরিকল্পনাসহ সার্বিক শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়নে হাত দেন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠাও করে যান।
তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই কিন্তু রেখে গেছেন তার সুমহান আদর্শ। আর মুজিবের সেই আদর্শকে লালন করে আমাদের সামনে এগুতে হবে। বিশেষ করে আজকের ছাত্র-ছাত্রীরা, প্রজন্ম যারা আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে তারা তাঁর সম্পর্কে অধিক জানতে হবে। ধিক্কার জানাতে হবে অনন্তকাল ধরে তাদের যারা আমার জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
পরে তিনি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বইয়ের কয়েকটি অধ্যক্ষ মাও. মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেন। সবশেষে তিনি সততা স্টোরের উদ্বোধন করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, মাও. এমএ মান্নান, প্রভাষক মাও. আ. হামিদ, সুলতানা আক্তার, সেফাতুন্নাহার, জহিরুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ, শিক্ষক বিল্লাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মো. শহীদুল্লাহ, গোলাম জিলানি, মৌলভী সিরাজুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ, নজরুল ইসলাম, শামসুন্নাহার প্রমুখ।

৩ আগস্ট, ২০১৯।