হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিলন ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. জুলহাস মিয়া। রোববার (১২ ডিসেম্বর) উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে উভয় প্রার্থী ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ার অভিযোগ করে রিটার্নিং অফিসার, প্রশাসন ও পুলিশের কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন এবং ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. জুলহাস মিয়া জানান, গত ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর আমরা প্রচারণা শুরু করি। যার অংশ হিসেবে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নিজ-নিজ প্রার্থীর প্রতীকের ব্যানার ও পোস্টার টাঙানো হয়।
এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে কে বা কারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ইউনিয়নের দেবপুর রাজারগাঁও সড়কের দেবপুর থেকে মিতালী বাজার পর্যন্ত, সন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মালয়েশিয়ান কফি হাউজ সংলগ্ন এলাকার সকল ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে হয়।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিলন জানান, এটা অপ-রাজনীতির কাজ এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। প্রতিযোগিতা ভালো প্রতিহিংসা নয়। আমি এই অপরাজনীতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওয়াতায় এনে বিচার দাবি করছি।
তিনি বলেন, ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে মানুষের অন্তর থেকে কেউ ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারবেন না। ইনশাআল্লাহ্ ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বিজয়ের হাসি আমিই হাসবো, ইনশাআল্লাহ্।
অপরদিকে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. জুলহাস মিয়া জানান, প্রতীক পাওয়ার দিন থেকেই (৭ ডিসেম্বর) আমার ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলা শুরু হয়। শনিবার দিবাগত রাতেও আমার ব্যানার ও লেমেনেটিং করা পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাঘাত করা হচ্ছে। এছাড়া আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকিসহ ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জুলফিকার আলী জানান, ব্যানার ও পোস্টার ছেঁড়ার কথা উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান ও মো. জুলহাস মিয়া লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার অফিসার ইনচার্জকে জানিয়েছি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেছি। তাদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি।
১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
