ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরের বাক প্রতিবন্ধী মাছুমা আক্তার উচ্চ শিক্ষা নিতে চায়। বর্তমানে সে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শেষ করছে সদর উপজেলার উত্তর তরপুরচন্ডী কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তার সমাপনী পরীক্ষার রোল নং ছিলো ম-৫৮৮৫। মাছুমা ওমান প্রবাসী মাহবুব আলম তালুকদারের বড় মেয়ে। বাবা মাহবুব আলম তার মেয়ের জন্মগত এই বাক প্রতিবন্ধী রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের সব নামকরা হাসপাতালগুলোতে শেষ চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও তার চিকিৎসা করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ১০/১২ লাখ টাকা ব্যয়ে তার অপারেশনের কথা বলেছেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি তেমন না থাকায় মাছুমাও আর কথা বলতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে তার পুরো পরিবারটি আর্থিক সঙ্কটে পড়ছে।
ফুটফুটে শিশু মাছুমা ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ে পড়ালেখা করে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। এমতাবস্থায় তার স্বাভাবিক পাঠদান আবশ্যক। কিন্তু বাঁধ সাধছে তার পড়াশুনার জন্য চাঁদপুরে বাক প্রতিবন্ধী উচ্চ শিক্ষার কোন প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে সে আশঙ্কা করছে আসছে দিনগুলোতে হয়তো তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন স্বপ্ন’ই থেকে যাবে।
কারণ হিসেবে জানা গেছে, চাঁদপুরে বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ (মাধ্যমিক পর্যায়ের) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। যার ফলে মাছুমা অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। তার স্বাভাবিক, সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য দরকার শিক্ষার পরিবেশ। আর এ জন্য দেশের রাজধানীর মতো স্থানে সরকারি পর্যায়ে তার শিক্ষা কার্যক্রম ধারাবাহিক করা সম্ভব। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল এই পাঠদান সম্ভব নয়।
মাছুমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খেদেজা বেগম ইল্শেপাড়কে জানান, মাছুমা আক্তার যেমন ফুটফুটে মিষ্টি মেয়ে, তেমনি চঞ্চল। সবার সাথে মিশুক প্রকৃতির একজন শিক্ষার্থী। সে অত্যন্ত মেধাবী না হলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু সেজন্য তার মানের উচ্চ (মাধ্যমিক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। আর তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও তেমন স্বচ্ছল নয়। বর্তমানে কোন সুহৃদ ব্যক্তি কিংবা প্রশাসন যদি তার পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো তার একটি সুন্দর শিক্ষা জীবন লাভ করা সম্ভব হবে।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- বাক প্রতিবন্ধী মাছুমা উচ্চ শিক্ষা নিতে চায়
