বালিয়ায় হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক দু’মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদরের বালিয়া ইউনিয়নে গুলিশা গ্রামে স্ত্রী বেবী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. খোরশেদ আলম পাটওয়ারী বিরুদ্ধে মামলা করেছে বেবী বেগমের বোনের ছেলে মনির হোসেন শেখ। খোরশেদ আলমের আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে তার ভাই সফিকুর রহমান পাটওয়ারী। গত রোববার দিনগত রাতে চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক এই দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।
গতকাল সোমবার সকালে নিহত বেবী বেগমের মরদেহ গ্রহণ করেন মনির হোসেন শেখসহ স্বজনরা। অপরদিকে খোরশেদ আলমের মরদেহ গ্রহণ করেন তার ভাই সফিকুর রহমান পাটওয়ারী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান লাশগুলো হস্তান্তর করেন।
মনির হোসেন শেখ হত্যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, খোরশেদ আলম ও বেবী বেগমের ৩ মেয়ের বিয়ের পরে তাদের সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। খোরশেদ আলম এরই মধ্যে ৩ বার ব্রেইন স্ট্রোক করেন। যার ফলে তাদের নিজ সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করে। অভাবের সংসারে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। তার খালাকে খোরশেদ আলম শ^াসরোধ করে, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে দরজার বাইরে তালাবদ্ধ করে চলে যায়। বেবী বেগমের লাশের পাশে একটি হাতুড়ী ও একটি স্ক্রু ড্রাইভার পড়েছিলো।
চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ জানান, এই ঘটনায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। দু’টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই ফজলুর রহমানকে। এই ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে গুলিশা পাটওয়ারী বাড়িতে বেবী বেগম হত্যার শিকার হন। খোরশেদ আলম স্ত্রীকে হত্যা করে চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকায় চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

১৬ জুলাই, ২০১৯।