চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৬২০ পরিবার পেলো ঘর
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে এক সাথে অসহায় ও ভূমিহীনদের ঘর হস্তান্তর পর চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলায় পঞ্চম পর্যায়ের ৬শ’ ২০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উপকার ভোগীদের মাঝে হস্তন্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ১২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে উপকারভোগীদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সারাদেশের গৃহহীনদের বিনামূল্যে ঘর দেওয়ার জন্য গৃহীত আগ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৮ হাজার ৫শ’ ৬৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে দেওয়া বাড়িগুলো গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে বিনামূল্যে ঘর প্রদান করে পুণর্বাসন করেছি। এতে তাদের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। আত্মবিশ^াস ও আত্মমর্যাদাবোধ ফিরে এসেছে। একটি দেশকে উন্নত করতে হলে এর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা ঈদ উপহার হিসেবে এসব ঘর গুলো দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশবাসীর সেবা করা। কারণ, দেশের জনগণের আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা থাকায় তারা বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এককভাবে ২৩৩টি আসন প্রাপ্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আস্থা ও বিশ^াস রেখেছিল আমাদের ওপর। কাজেই যে মানুষগুলো আমাদের ওপর আস্থা ও বিশ^াস রেখেছে তাদের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব।
সরকার প্রধান বলেন, ঠিক আমার বাবা যেভাবে নিজেকে বাংলাদেশের জনগণের সেবক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেভাবেই তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের মানুষের সেবা করাকেই আমি কর্তব্য বলে মনে করি। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশ কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না। এই বাংলাদেশকে এগিযে নিতে যেতেই হবে। এদেশের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র থেকে মুক্তি পাবে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন সুন্দর হবে-সেটাই আমাদের লক্ষ্য। যে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে যে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস (রিমেল) হয়ে গেল সেখানে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমেধ্যেই আমরা তালিকা করেছি কোন কোন এলাকায় কতগুলো ঘর সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। কতগুলো আংশিক বিধস্ত’ হয়েছে। যেগুলো সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত তাদের আমরা ঘর তৈরি করে দেব। আর ক্ষতিগ্রস্তদেরও আমরা ঘর পুণঃর্নিমাণে সহায়তা করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের পাশে আমরা আছি। প্রাথমিকভাবে যা যা প্রয়োজন তা করে যাচ্ছি এবং ঘর-বাড়ি যাদের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমি তাদের এটুকু বলতে চাই, আপনাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। প্রত্যেকেই নতুন ঘর যাতে পান, সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমি করে দেব এবং সেভাবেই আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেক এলাকা থেকেই আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং সে অনুযায়ী আমরা এই সহায়তা পাঠাব।
সরকার প্রধান বলেন, আমার দেশের যারা ভূমিহীন-গৃহহীন আছে, তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয়ের ব্যবস্থা, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ফলে তাদের জীবন বদলে গেছে। এই সময় তিনি ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপন এবং প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়াতে দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তিনি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ঘরগুলো নির্মাণের কাজে জড়িতদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এবং জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে উপকারভোগীদের মাঝে ঘর হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত জামিন সৈকত, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল এমরান খাঁন, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্ল্যাহ পাটওয়ারী, মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত ১২৯০ জন ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পরিবার প্রতি ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক ঐ জমিতে ৪০০ বর্গফুট আয়তনের ২ কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা একক গৃহ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলাওয়ারী ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার হচ্ছে- চাঁদপুর সদর ১৯৭, ফরিদগঞ্জ ৫৬, কচুয়া ৯৩, হাজীগঞ্জ ৮৪, মতলব দক্ষিণ ১৯৪, মতলব উত্তর ১৮৫, শাহরাস্তি ৫৮ ও হাইমচর উপজেলায় ৪২৩ পরিবার। সরকার কর্তৃক কবুলিয়াত দলিলের জন্য পরিবার প্রতি ২৫৮টাকা, নামজারী ও খতিয়ান প্রদান বাবদ ১ হাজার ১শ’ ৭০টাকা প্রদান করা হয়েছে। এতে নামজারী, জমি রেজিস্ট্রেশন ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ তাদের কোন টাকা ব্যয় করতে হয় না। প্রতিটি একক গৃহের আয়তন ৪০০ বর্গফুট। দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহে একটি টয়লেট, একটি রান্নার কক্ষ ও একটি ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে। আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণের জন্য প্রতিটি ঘরের জন্য সরকার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫শ’ টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে।
১২ জুন, ২০২৪।
