ভোটে আগ্রহী প্রার্থীরা, প্রত্যাশা নেই বিচার প্রার্থীদের!

 

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরের অন্যতম পেশাজীবী সংগঠন চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনিবাহী কমিটির নির্বাচন আগামি ২৪ জানুয়ারি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে বছর ঘুরে এ সংগঠনটির নির্র্বাচন আর দায়িত্বের পালবদল নিয়ে কোন আগ্রহ নেই এ জেলার বিচার প্রার্থীদের। ফলে এ নির্বাচনটিকে ঘিরে কেবল আইনজীবীদের মাঝেই কম-বেশি উৎসাহ আর উদ্দীপনা বিরাজ করতে দেখা গেছে।
বিপরীতে আইনজীবী সমিতিটি দীর্ঘদিন ধরে এ জেলার বিচার প্রার্থীদের জন্য কোন অর্থবহ অবদান রাখতে না পারায় নির্বাচন নিয়ে সর্বসাধারণের তেমন কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। আর এমন নিরুত্তাপ ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির অনেকটাই শেষ মুহূর্তে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া আইনজীবীরা সর্বসাধারণের কাছে অতি পরিচিত মুখ না হওয়ায় অনেকটাই নিরুত্তাপ ভোটের পরিবেশ বিরাজ করছে এ জেলার বিচারাঙ্গনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনিবাহী কমিটির নির্বাচন নিয়ে প্রতি বছরেরই সিনিয়র আইনজীবীসহ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতো নির্বাচনী ঝড়। বর্তমানের নির্বাচনে সিনিয়র আইনজীবীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায়, তেমন উত্তাপ থাকছে না পেশাজীবী এই সংগঠনটির নির্বাচন নিয়ে। যদিও নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমমনা দু’টি পৃথক-পৃথক প্যানেল দিয়ে নির্বাচনকে অর্থবহ করার চেষ্টা করেন সব সময়ই।
এদিকে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেকটাই শেষ করেছে। ২৪ জানুয়ারি কেবল শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। এজন্য দু’টি প্যানেলের প্রার্থীরা নিয়মিত ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছেন দোয়া ও সমর্থনের জন্য। কেউ কেউ তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাণী শোনাচ্ছেন ভোটারদের।
এদিকে বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবী সংগঠন আইনজীবী সমিতি কেবল তাদের সদস্যদের কল্যাণে কাজই করে না। বরং তারা বার ও বেঞ্চের সাথে সমন্বয় করে বিচারপ্রার্থীদের কল্যাণে কাজ করে থাকে। কিন্তু বিচার প্রার্থীদের কল্যাণে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভূক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে অনেকাংশেই ব্যর্থ বলে দাবি উঠেছে।
ভূক্তভোগী বিচার প্রার্থীদের দাবি, আইনী সেবা পাওয়ার আশায় আদালতে আসলেই বিপাকে পড়তে হয় আইনী সেবা গ্রহিতাদের। আইনজীবীরা তাদের পেশাটাকে সেবা হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যবসা হিসেবে দেখে বলে অভিযোগ বিচার প্রার্থীদের। আর এ কারণে বিচার চাইতে এসে দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় বিচার প্রার্থীদের।
এছাড়া তারা আরো অভিযোগ করেন, মামলা দায়ের পর শুরু হয় কোর্টের পেশাকার ও জারিকারক মাধ্যমে আর্থিক হয়রানি। সাথে মামলার নিয়মিত তারিখ (পরবর্তী দিন) নির্ধারণে কোর্ট স্টাফদের নির্ধারিত টাকা। যা আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা ওপেন সিক্রেট হিসেবেই দিয়ে থাকে। এমন ঘোষিত দুর্নীতির কারণেই বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা শুরু হয় এভাবেই। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিচারপ্রার্থীই ন্যায়বিচারের আশাও হারিয়ে ফেলেন আর্থিক সংগতির ধারাবাহিকতা রাখতে না পারায়।
ভূক্তভোগীদের দাবি, বিচার অঙ্গনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পেশাজীবী সংগঠন হিসেব আইনজীবী সমিতি দেখভাল করার কথা থাকলেও তারা তা করছেন না অজ্ঞাত কারণেই। এমন পরিস্থিতিতে ভূক্তভোগীর সংখ্যা কেবল বেড়েই চলছে। ফলে বিচার চাইতে এসে ভূক্তভোগীরা প্রতিকার পাওয়ার আশা অনেকাংশেই হারিয়ে ফেলে।
এজন্য বিচার প্রার্থীরা দাবি করছে, অতীতের সব ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে এসে বিচার প্রার্থীদের কল্যাণে আইনজীবী সমিতি যেন কাজ করে। এজন্য তারা নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা করছে- দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা দায়ের, জবাব দাখিল, শুনানি, পরবর্তী তারিখ যেন নির্ধারণে থাকে সুষ্ঠু পরিবেশ। এজন্য কোর্ট অঙ্গনে ডিজিটাল সিস্টেমে মামলার তালিকা প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হয় যেন দ্রুত।
তারা আরো বলছেন, এসব ক্ষেত্রে যেন কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন না থাকে। এজন্য সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ বিচারকদের সমন্বয়ে যেন প্রতিদিনের একটি সংক্ষিপ্ত ফলোআপ বার সমিতি কার্যালয়ে প্রর্দশন করা হয়। যাতে বিচার প্রার্থীরা তাদের মামলার সর্র্বশেষ পরিস্থিতি জানতে পারে কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই।
এদিকে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমম্বয় পরিষদ ও সমমনা আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা। দু’প্যানেলে ১৩টি পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেলে সভাপতি পদে অ্যাড. আহসান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মো. গোলাম কাউছার শামীম। বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত সমমনা আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা হলেন সভাপতি পদে অ্যাড. মোহাম্মদ বাবর বেপারী, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. আবদুল্লাহীল বাকী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মো. আলম খান মঞ্জুর প্যানেল।
নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে ভোটারদের অভিমত হচ্ছে- এককভাবে জয়ের ধারাবাহিকতা থাকবে না কোন প্যানেলেরই। তবে ভাগাভাগি জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে উভয় দলের প্রার্থীদের।
২১ জানুয়ারি, ২০২১।