মতলবের নারায়নপুরে প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ, আটক ৪

মতলব দক্ষিণ ব্যুরো
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে (১৭) গণধর্ষণ করেছে কয়েকজন যুবক। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার নারায়ণপুর গরুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলে ৪জনকে গ্রেপ্তার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। ওই প্রেমিকা মতলব পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নানীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি কলেজে লেখাপড়া করে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে এক বন্ধুর সঙ্গে চাঁদপুর জেলা শহরে বেড়ানো শেষে সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সা ভাড়া করে রাত ৮টায় উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকায় যায় ধর্ষিতা। সেখানে অটোরিক্সাটি থামিয়ে অটোরিকশার চালক মো. সবুজসহ বন্ধু রাজিব মিয়াকে নিয়ে সেখানকার একটি হোটেলে নাস্তা খায় সে। এরপর সেখান থেকে ওই অটোরিক্সায় নানীর বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। তারা রাত সাড়ে ৮টায় নারায়ণপুর গরুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আগে অবস্থান নেয়া সোহরাব হোসেন (২৪), সোহেল গাজী (২২), মানিক সরকার (২২) ও নীরব পাঠান (২৪) নামের চার যুবক তাদের গতিরোধ করেন এবং ছাত্রীটির বন্ধুকে মারধর করে গাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে ওই বাজারের একটি ঘরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। জানা যায়, তাদের ওই কাজে সহায়তা করেন অটোরিক্সার চালক সবুজ।
সূত্রটি জানায়, এরপর ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানালে ওই রাতেই মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার আইচের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ছাত্রীটির নানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনার পর তার নাতনী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তার লেখাপড়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষিতা বাদী হয়ে উপজেলার ঘিলাতলী গ্রামের সোহরাব হোসেন, সোহেল গাজী, নীরব পাঠান ও কামরুল মিয়া, নারায়ণপুর গ্রামের মানিক সরকার এবং অটোরিক্সাটির চালক মো. সবুজকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ সোহরাব হোসেন, সোহেল গাজী, মো. সবুজ ও কামরুল মিয়াকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ধর্ষিতাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। মামলার পলাতক আসামি মানিক সরকার ও নীরব পাঠানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।