মতলবে সিআইডির বিশেষজ্ঞ টিম

মাহ্ফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরে পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া তিন শিশুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য শুক্রবার রাত দেড়টায় সিআইডির রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ দু’টি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই টিমে ছিলেন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ের ক্রাইম টিম অ্যানালাইসিস বিভাগের পরিদর্শক মর্তুজা কবির ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ পিন্টু পোদ্দার।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানায়, মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিন মসজিদ সংলগ্ন যে ছোট্ট  কক্ষে থাকতেন সেটিতে দু’টি ছোট্ট জানালা ও একটি দরজা রয়েছে। কক্ষটির ভেতরে পল্লী বিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সৌর বিদ্যুতের দুটি এবং মাইকের একটি ব্যাটারিও রয়েছে। সেখান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেয়া হয়।
ওই এলাকার ৪-৫জন বাসিন্দা জানান, গত শুক্রবার সারাদিন ওই মসজিদ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। তারা ধারণা করছেন, পানি মনে করে ব্যাটারির অ্যাসিড খেয়ে অথবা অন্য কোনো কারণে ওই তিন শিশু-কিশোর মারা যেতে পারে। তারা আরো জানান, জাহিদুল ইসলাম রিফাত জুমার নামাজের আজান দিয়ে তারা তিন শিশু-কিশোর নামাজ আদায় না করে ওই কক্ষের ভিতরে অবস্থান করে। শাহিন সরকার নামে মসজিদের নিয়মিত একজন মুসল্লি জানান, এই মসজিদে মুয়াজ্জিন না থাকায় রিফাত গত ৩ দিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার আইচ বলেন, পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে। সবদিক মাথায় রেখে তদন্তকাজ চলছে। কক্ষটির ব্যাটারির অ্যাসিড থেকে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়ে বা কক্ষে রাখা অ্যাসিড পান করার কারণেও এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না করে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে ওই তিন শিশু-কিশোরের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলা সদরের পূর্ব কলাদী জামে মসজিদ এলাকায় মসজিদ সংলগ্ন ইমাম মো. জামাল উদ্দিনের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা তাঁর নিজ সন্তান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং মো. ইব্রাহিম ও মো. রিফাতকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার বিকেলে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইমাম জামাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ্ আল নোমানকে তার পরিবার বরগুনা নিজ এলাকায় নিয়ে যায়। অপর ইব্রাহিম ও রিফাতকে মতলবের নিজ এলাকায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।