বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতো
……..নুরুল আমিন রুহুল এমপি
মনিরুল ইসলাম মনির
চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাড. মো. নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতো। তবে তাকে শহীদ করে দেশের অগ্রগতি রোধ করা যায়নি, কারণ তার দূরদর্শী কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাঢ়ীকান্দি দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুকের পরিচালনায় আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
নুরুল আমিন রুহুল বলেন, বাংলাদেশের অনেক সাফল্যের গল্প রয়েছে, বিশেষ করে রয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্রুত বিকাশ ও সমৃদ্ধির আখ্যান। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে, তাকে থামিয়ে দিতে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। একাত্তরের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি বলেই বিভিন্ন নামে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে জঙ্গি হামলা। পরাজিত শক্তি আজ দেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও পরবর্তীতে শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে বাধা দিতে যারা ব্যর্থ হয়েছে তারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু আমাদের শুধু স্বাধীনতা এনেই দেন নি, বাঙ্গালি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। পৃথিবীতে অনেক নেতা এসেছেন। কিন্তু একটি জাতীকে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে মাত্র সাড়ে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, দিয়েছেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। বঙ্গবন্ধু ছাড়া এমন নেতা আর আসেননি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করা সবচেয়ে জরুরি। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল সেই হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়কদের বিচার করা হয়নি। এই ষড়যন্ত্রকারীদের নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করা সবচেয়ে জরুরি।
সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, মতলব উত্তর থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লা প্রধান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন মাস্টার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান জহির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বাবু রাধেশ্যাম সাহা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাড. মহসিন মিয়া মানিক, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, গজরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন, সুলতানাবাদ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন, গজরা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান, বাগান বাড়ি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি ইলিয়াছ মিয়াজী প্রমুখ। কোরআন তেলোয়াত হাফেজ মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এমপির ব্যক্তিগত সহকারী অ্যাড. লিয়াকত আলী সুমন, ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাইয়ুম চৌধুরী, ছেংগারচর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামান সরকার, গজরা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম আরমান, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি এমরান হোসেন চৌধুরী রাজু, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওহেদুজ্জামান ওয়াদুদ, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূরে আলম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আকাশ, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস প্রধান, দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামাল লস্করসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কৃষক লীগের উদ্যোগে নেতা কর্মীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে এবং ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
২০ আগস্ট, ২০২০।
