মতলব দক্ষিণের নাউজান গ্রামে ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ফুফু-দাদি জেলহাজতে

মাহফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাউজান গ্রামের একটি ডোবা থেকে বুধবার বিকালে তাওহিদুল ইসলাম নামের তিন বছরের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ফুফু ও দাদিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাওহিদুলকে হত্যা করে লাশ খালের পানিতে ফেলে দেয়া হয়।
জানা গেছে, তাওহিদুল ইসলাম উপজেলার নাউজান গ্রামের কামরুল ইসলাম ও সাহেদা জামানের ছোট ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তাওহিদুলের পিতা কামরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সৎ ভাই নুরে আলম ও জানে আলমের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে কামরুল ও তাঁর সৎ ভাইদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি চলত। দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দিন আগে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এতে তাওহিদুলের মা সায়েদা জামান আহত হন। বুধবার বিকেল ৫টায় সাহেদা জামান তাঁর ছোট ছেলে তাওহিদুলকে বসতঘরে একা রেখে পারিবারিক প্রয়োজনে কিছুক্ষণের জন্য বাড়ির বাহিরে যান। বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান তাঁর ছেলে তাওহিদুল ঘরে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ছেলেকে কোথাও খুঁজে পাননি। পরে ওই দিন সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ওই গ্রামের লোকেরা সেখানকার একটি ডোবায় শিশুটির লাশ দেখতে পান এবং শিশুর পরিবারকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার আইচের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ বলেন, এটি একটি হত্যাকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ব শত্রতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে বুধবার রাত ১০টায় শিশুটির চাচা নজরুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে লাকি আক্তার (২৫), জাহেদা বেগম (৪৫), জানে আলম (২৭) ও নুরে আলমকে (২৫) আসামি করে তাঁর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাতেই পুলিশ লাকি আক্তার ও জাহেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।