মাহ্ফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের পিয়ারীখোলা গ্রামে সোহেল রানা (১৭) নামের এক কাঠমিস্ত্রিকে রোববার রাতে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার বিকেলে সোহেলের মস্তকবিহীন লাশটি উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।
পুলিশ জানান, পিয়ারীখোলা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা ঢাকায় একটি আসবাবপত্রের দোকানে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। এর আগে সে এলাকায় অটোরিকশা চালাতো। সে ওই গ্রামের জমির হোসেন প্রধানের ছেলে। ঈদের আগে সে গ্রামের বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার মামা আবুল কালাম তাকে একটি দামি মুঠোফোনের সেট কিনে দেন। রোববার সন্ধ্যার পর মুঠোফোনটি নিয়ে সে তার প্রতিবেশী মো. জিসানের বাড়িতে যায়। ওই বাড়িতে জিসানের ছেলে মো. জিহাদের সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠান উপলক্ষে গানের আসর বসেছিলো। সোহেল ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রোববার রাতে আর বাড়ি ফেরেনি।
গতকাল সকালে বাবা জমির হোসেন প্রধান ও মামা আবুল কালামসহ অন্যান্যরা সোহেলের খোঁজে বের হন। প্রতিবেশী জিসানের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করা হলেও এ ব্যাপারে তাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি কেউ। খুঁজতে খুঁজতে তারা ওই গ্রামে সোহেলের মামা আবুল কালামের তৈরি একটি বাড়িতে যান। সেখানে একটি দোচালা ঘর, কিছু গাছপালা ও একটি পুকুর রয়েছে। কোনো লোকজন থাকেন না সেখানে। দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই বাড়ির পুকুরের আইলের পাশে সোহেলের মস্তকবিচ্ছিন্ন লাশ দেখতে পান তারা। বিষয়টি থানায় জানানো হলে গতকাল দুপুর ১টায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) মো. আহ্সান হাবিব ও থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ এবং চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন পিবিআই’র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে।
সোহেলের বাবা জমির হোসেন প্রধান বলেন, কারো সঙ্গে সোহেলের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। তার পরিবারের সঙ্গেও এলাকার কারো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই। ঠিক কী কারণে তার ছেলেকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তা তাদের বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির লাশ বিকেলে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়ার জন্যই সোহেলকে খুন করা হতে পারে বলে তার পরিবার ধারণা করছে।
২০ আগস্ট, ২০১৯।