মাহফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বহরী গ্রামে সহপাঠীদের ইভটিজিং সইতে না পেরে রোকসানা আক্তার দৃষ্টি (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গত বুধবার বিকেলে বসতঘরের একটি কক্ষে আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় স্কুলছাত্রীর সহপাঠী আকাশ ও সাব্বিরকে আটক করা হয়।
রোকসানা আক্তার দৃষ্টি বহরী গ্রামের হতদরিদ্র আব্দুর রশিদ বেপারীর একমাত্র কন্যা। সে বহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আকাশ ও সাব্বিরও দৃষ্টির সঙ্গে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বাড়িও বহরী গ্রামে। এ ঘটনায় দৃষ্টির মা বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় আকাশ ও সাব্বিরকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুরস্থ শিশু কিশোর সংশোধনাগার প্রেরণ করা হয়।
দৃষ্টির পরিবার (মা) অভিযোগ করেন, আকাশ ও সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে এমনকি বিদ্যালয় এলাকায়ও তার মেয়ে রোকসানাকে অশ্লীল ভাষায় উত্যক্ত করে। গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে আকাশ ও সাব্বির রোকসানাকে উত্যক্ত করায় বাড়ি এসে রোকসানা তার মাকে জানালে তিনি ওই দিন (আকাশ ও সাব্বিরের) তাদের বাবা-মায়ের কাছে যান এবং ঘটনাটি জানিয়ে এর বিচার দাবি করেন। কিন্তু আকাশ ও সাব্বিরের বাবা-মা তার অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে ছেলেদের পক্ষ অবলম্বন করেন। গত বুধবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আকাশ ও সাব্বির পুনরায় বিভিন্ন অশালীন ভাষায় তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে এবং একপর্যায়ে তারা দৃষ্টিকে ফাঁসি দিয়ে মরে যাওয়ার কথাও বলে। এতে ভীষণভাবে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয় বিদ্যালয় থেকে গিয়ে ওই দিন বিকেলে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই সময় তার মা ছাগল নিয়ে বিলে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে এবং সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়ের ঝুলন্ত নিস্তেজ দেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে আসেন এবং তারা সেখান থেকে রোকসানাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আকাশ ও সাব্বিরকে তাদের বাড়িতে আটক করে থানা পুলিশ।
বহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, রোকসানা আক্তার দৃষ্টি ওই দিন তৃতীয় ঘণ্টার পর অসুস্থতার কথা বলে শ্রেণি শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায়। হঠাৎ করে বিকেলে জানতে পারে সে আত্মহত্যা করেছে। কি কারণে আত্মহত্যা করেছে এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি স্বপন কুমার আইচ জানান, ময়নাতদন্তের জন্য ওই স্কুলছাত্রীর লাশ বুধবার রাতে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। আটক হওয়া আকাশ ও সাব্বিরকে গাজীপুরস্থ শিশু কিশোর সংশোধনাগার প্রেরণ করা হয়।
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।