
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২১নং পশ্চিম আশ্বিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. কাউছার আহম্মেদ মাস্টার অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে পশ্চিম আশি^নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বজলুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে। কিন্তু অদৃশ্য এক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।
জানা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পশ্চিম আশি^নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে ১০ হাজার টাকা, স্লিপের ৫০ হাজার টাকা এবং রুটিন ম্যান্টেইনেন্সের ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ঐ বরাদ্দের টাকায় বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন কাজ, প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষ সাজ-সজ্জা ও খেলনা সামগ্রী ক্রয় এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেন ওই শিক্ষক। তবে বরাদ্দে উল্লেখিত যৎসামান্য কাজ করলেও কাগজে-কলমে সব কাজের বিল ভাউচারসহ মিল রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান উপজেলার নায়েরগাঁও বাজারের নজরুল ইলেক্ট্রিকের দোকানের একটি ভাউচারে ৩টি সিলিং ফ্যান মেরামতের জন্য খরচ দেখান ৪ হাজার টাকা। যা বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই এবং ভাউচারে কোন তারিখ উল্লেখ নেই। এভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের ভাউচারে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়।
এদিকে বিদ্যালয়ের মোট ৩৩ শতাংশ সম্পত্তি থাকলেও বিদ্যালয়ের ভবন ছাড়া বাকি জায়গায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের বাবা-মায়ের কবরসহ ব্যক্তি মালিকানা ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে রেখেছেন একটি মহল।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অনিয়মের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. কাউছার আহম্মেদ মাস্টার জানান, অভিযুুক্ত শিক্ষক বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সব অনিয়মের বিচার করা হোক।
তিনি আরো জানান, আমার বিদ্যালয়ের এই অভিযুক্ত শিক্ষককে বদলি করে একজন সিনিয়র শিক্ষককে এই পদে দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, বরাদ্দকৃত টাকার কাজ যদি না করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
