স্টাফ রিপোর্টার
গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মো. মাজেদুর রহমান খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি হাসপাতালের বর্তমান সেবার পরিসংখ্যান, উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসা সেবা এবং গুণগত সেবা প্রদানের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন হাসপাতালটি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে এ হাসপাতালটিকে এই অঞ্চলের চক্ষু রোগীদের জন্যে অন্যতম সেরা চক্ষু হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়ে কাজ করার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত ও প্রযুক্তি নির্ভর করার পরামর্শ প্রদান করে অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।
পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যত্রম শুরু হয়। মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রোটা. মাজহানুল হক ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ডা. এম এ গফুর, কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম=সাধারণ সম্পাদক ডা. মো একিউ রুহুল আমিন, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পরেশ সাহা, সদস্য আবুল কালাম পাটওয়ারীসহ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত যেসব সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সবার রুহের মাগফিরাত কামনায় এবং হাসপাতালের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য, সাধারণ পরিষদ সদস্যসহ উপস্থিত সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। অতঃপর বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৯ এর মোড়ক উন্মোচন করেন কার্যানর্বাহী পরিষদের সভাপতি মো. মাজেদুর রহমান খানসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
১০ম বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক এম. এ মাসুদ ভূইয়া হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম এবং হাসপাতাল কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থিত সবাইকে জানান। তিনি সভায় হাসপাতালের ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০১৮ এর কার্যবিবরণী, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং সভায় তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। সভায় হাসপাতালের সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ যারা হাসপাতালের কার্যক্রমকে সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিতে তাকে সহযোগিতা করছেন তিনি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া চাঁদপুর জেলার সকল দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, সংবাদকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান, যারা বিভিন্ন সময়ে তাদের পত্রিকায় হাসপাতালের কার্যক্রমগুলি সাবলীল ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করে গনমানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সভায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিবেদন এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন কার্যনির্বাহী পরিষদের কোষাধ্যাক্ষ সুভাষ চন্দ্র রায় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের আজীবন সদস্য রোটা. মো. আবু ফয়েজ খান চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, সাধারণ পরিষদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া জীবন প্রমুখ।
এছাড়া দাতা সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের শিশু অন্ধত্ব নিবারণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহসিনা আফরোজ এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চাঁদপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জামাল আবু নাসের বক্তব্য রাখেন। হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য তমাল কুমার ঘোষের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।
০৬ অক্টোবর, ২০১৯।